অবশেষে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো শাজাহানপুরের ‘মাটি সন্ত্রাস’

0
279

একে আজাদ
আবশেষে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর বানারশি ডিবেরচড়া এলাকায় অবৈধ মাটিকাটা বন্ধ হলো।
গতকাল রবিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি খননযন্ত্রের মালিকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর একটি খননযন্ত্র ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদা পারভীন। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা সহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের পেশকাার মোজাহিদুল ইসলাম জানান, বালু মহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে কৃষি জমি ও বসতবাড়ির নীচ থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে একটি খননযন্ত্র ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আবু খায়ের নামে অপর একটি খননযন্ত্রের মালিকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
পাশাপাশি আলাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাখা খননযন্ত্রের মালিকের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহার করা হবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে সর্তক করে দেয়া হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। উপজেলার কোথাও এই ধরনের মাটি কাটার বিষয় তদন্তে প্রমানিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত এক বছর ধরে বগুড়ার শাজাহানপুরের সাজাপুর জায়দারপাড়ায় বানারশি ডিবেরচড়া নামক এলাকা থেকে এক বছর ধরে অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলন করছি ভূমিদস্যুরা। ফলে তিনটি বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার উপক্রম হয়। ওই তিনটি বাড়িতে ১১ কক্ষ ছিল। প্রায় ২০ বাসিন্দার বসবাস করছিলেন। কিন্তু ‘ভূমিদস্যু’ বা মাটি ব্যবসায়ীরা ওই এলাকায় মাটি কেটে ভিটেমাটিও পুকুরের মতো নিচু করে ফেলেন। ফলে বাধ্য হয়ে পানির দরে তাদের পৈত্রিক বসতভিটা বিক্রি করে চলে আসেন। বসতভিটা কেড়ে নিয়েই থেমে ছিলনা ‘মাটি সন্ত্রাসীরা’।
গত কয়েকদিন ধরে রাতের ঘুম পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছিল তারা। রাতভর মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে এলাকায় থাকা মুশকিল। এমন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
অবশেষে ভুক্তভূগী গ্রামবাসিরা অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে’ বিষয়টি অবহিত করেন। মাটি কাটার বিষয়ে জানতে গত শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন।
তবে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন।’
এর পেক্ষিতে গতকাল রবিবার দুপুরে ভ্রাম্যমান আদলাত পরিচালনা করা হয় ওই এলাকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here