অসহায় তালামিস্ত্রি, ভাগ্যই যাদের ‘লকডাউন’

0
251

সুমন সরদার, নিজস্ব প্রতিবেদক:
এইতো বেশ কিছু দিন আগে লোকারণ্য শহরের সাতমাথায় মানুষের কোলহল আর যানবাহনের শব্দে গোটা বগুড়া শহর ছিল চঞ্চল।
দৃশ্যপট পাল্টে গেল করোনার ভয়াল ছোবলে। ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন প্রশাসনের তরফে বলার পরেই লোক সমাগম কমতে কমতে কোলাহল মুক্ত পরিবেশ তৈরি হলো সাতমাথার।
সচেতনতা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সাধারন জনগনও।
বগুড়া বাণিজ্যিক শহর হওয়ায় সাতমাথা কেন্দ্রীক গড়ে ওঠা স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান পাট ছিল। যাদের মধ্যে তালামিস্ত্রিরা বসত সাতমাথার বুক ঘেঁষে শেরপুর সড়কে।
বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা অসহায় হয়ে পড়েছে করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিন মজুরদের দৈন্যদশা চলছে। কেউ ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে আবার কেউ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করছে। মঙ্গলবার থেকে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউন ঘোষনার পর থেকে দিন মজুররা আরও বেকায়দায় পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাড় পাবার জো নাই।
বলছিলাম, তালামিস্ত্রিদের কথা তাদের ভাগ্যই যেন লকডাউনে পরিনত হয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেল, মিস্ত্রিদের গালে হাত আর কপালে কষ্টের ভাজের রেখা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। কথা বলতেই হরহর করে নিজের সংকটের কথা বললেন শরিফ।
মাদলা থেকে পায়ে হেঁটে সাতমাথায় দোকান খুলে বসেছে। মাত্র একটা তালা খোলার অর্ডার পেয়েছে ৫০টাকায়৷
দুদিন পরে কামায় (রোজগার) হলো। ৭ জনের সদস্য পরিবারে এখনো কেউ ত্রাণ সহায়তা করেনি। আরেক তালামিস্ত্রী ঈসমাইল জানালেন, আজকে ৭০টাকা এ পর্যন্ত কামাই করেছি। তার পরিবাওে ৭জন সদস্য। চাল, কিনব না বাজার করব, কি করে পেট চালাব ভাই আল্লাহ পাক ভাল জানে। আরেক মিস্ত্রি ২০নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীর জানালেন এখনো ত্রান সহায়তা পাইনি। লকডাউনে কেমনে চলবে দিন। ২ছেলে ২মেয়ে আর আমরা বুড়োবুড়ি মিলে কষ্টে দিন যাচ্ছে।
তালা ঠিক করতে আসা মসজিদের মোয়াজ্জেম এরশাদ জানালেন, আমরা সবাই কমবেশি সংকট আর কষ্টে আছি, আল্লাহ ছাড়া উপায় নাই বাঁচার। শুধু তালা মিস্ত্রিদের ভাগ্যই নয়, বিভিন্ন পেশার মানুষের ভাগ্যই এখন লকডাউন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here