ইউএনওর হটকারি সিদ্ধান্ত কাটা পড়ছে শতবর্ষি বটগাছ, প্রতিবাদ গ্রামবাসির

0
422

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএন) হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের ৫০০ শতাধিক গ্রাম বাসী মানববন্ধন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে ওই বটগাছের সামনে এই মানববন্ধন করেন গ্রামবাসীরা। মানববন্ধনে মানববন্ধনে ইউপি সদস্য আজিজার রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আইবর রহমান, শিক্ষক আনসার আলী, ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়নসহ ৫০০ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।
তারা সবাই ঘর তৈরির নামে প্রাচীন বটগাছ কাটার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনকারীরা জানান, উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের ছয় শতাংশ খাস জমির উপর এই বটগাছটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
মানববন্ধনে ইউপি সদস্য আজিজার রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আইবর রহমান, শিক্ষক আনসার আলী, ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সহ ৫শতাধিক গ্রামবাসি উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক ফজলুল হক জানান, শতবর্ষি পুরাতন এই বটগাছটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। বটগাছটি সরকারী খাস জমির উপর। সরকারী ভাবে ওই জমিতে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরিবেশ বান্ধব ঐতিহ্যবাহি ওই বটগাছটি কেটে বা বট গাছের সাথে ঘর নির্মাণ করা হলে গাছটি ধীরে ধীরে মারা যাবে। এখন গাছটির অবস্থান পুরো জায়গায় জুরে।এতে দিনমজুর কৃষক ও পথচারীদের ভোগান্তির সীমা থাকবে না। এই খাস জমিতে সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে এখানে দুটি ঘর স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কিন্তু ঘর করার জন্য শতবর্ষী এই গাছ কাটা খুব নির্দয় সিদ্ধান্ত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়া কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, ‘হামরা গ্রামের অধিকাংশ কৃষক। মাঠে কাজ শেষে আমরা এখানে দম নিয়ে থাকি। প্রচণ্ড রোদে এই বটগাছের নীচে বিশ্রাম ও বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে খেয়ে থাকি।’
আমরুল ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান লিটন জানান, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির আশংকা দেখা দিয়েছে। তিনি ইচ্ছে করলে অন্য কোন খাস জমিতে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করতে পারেন। প্রাচীন এই বট গাছকে ধ্বংস করে কোন স্থাপনা আমরা চাই না।’
আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল জানান, ‘গ্রামবাসীর দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমরুল ইউনিয়ন খাল, বিল, নদী-নালা, ভিটা মাটিসহ ৯২ একর খাস জমি রয়েছে। এর যেকোন স্থানে প্রকল্পটি সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এতে গ্রামের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে গ্রামবাসী।’
মানববন্ধনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বটগাছ বা এর শিকড় কেটে ভূমিহীনদের ঘর তৈরিকে হটকারি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। এ
বিষয়ে জানতে চেয়ে শাজাহানপুর ইউএনও মাহমুদা পারভীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ‘মানববন্ধনের বিষয়টি শুনেছি। এখানে একটি ভুল ধারনা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বটগাছ কেটে ঘর তৈরি করা হচ্ছে না। আশ্রায়ন প্রকল্পের ওই ঘর তৈরিতে গাছের কিছু শিকড় কাটা পড়তে পারে। তবে গ্রামবাসীরা যদি না চায় ওটা না কেটে প্রকল্পের কাজ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here