বিনোদন ডেস্ক: ঋষি কাপুরের একটি ভুল ভাগ্য বদলে দিয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। ঋষির ফিরিয়ে দেওয়া একটি ছবিতে অভিনয় করে রোমান্টিক হিরো হিসেবে ব্যাপক সাফল্য মুঠোবন্দি করেছিলেন তিনি। এ তথ্য জানা গেল কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি খবর থেকে। খবরটিতে বলা হয়, ঘটনাটি আশির দশকের। একজন রোমান্টিক হিরো হিসেবে তখন বলিউড মাতাচ্ছেন ঋষি। একের পর এক ছবির অফারও পাচ্ছিলেন তিনি। তেমনই একটি ছবির অফার এসেছিল তার হাতে। নাম ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’।
ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন কে সি বোকারিয়া। ১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। কিন্তু এর শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছিল তার ঠিক পাঁচ বছর আগে থেকে, অর্থাৎ ১৯৮০ সালে। রোমান্টিক ছবি। অতএব এমন রোল করতে পারেন সে রকমই হিরো খুঁজছিলেন বোকারিয়া। তখনই ঋষি কাপুরের কথাটা মাথায় আসে তার।

ছবির যে স্ক্রিপ্ট ছিল, তাতে ঋষি কাপুরই বেশ মানানসই হবে রোমান্টিক হিরোর জন্য, এই ভেবেই তাকে ছবিতে অভিনয়ের অফার দেন বোকারিয়া। ঋষিজি তখন আর একটি ছবিতে দু’বছরের জন্য সই করে ফেলেছিলেন। ছবিটির নাম ছিল ‘জমানে কো দিখানা হ্যায়’। বোকারিয়া ঋষির কাছে অফার নিয়ে গেলে তা তিনি ফিরিয়ে দেন। কারণ তার হাতে সময় ছিল না। মহা সমস্যায় পড়ে যান বোকারিয়া। ঋষির জায়গায় কাকে নেবেন? অগত্যা ডাক পড়লো মিঠুন চক্রবর্তীর। সে সময় বলিউডে তেমন নামডাক হয়নি মিঠুনের। ক্যারিয়ারে সুপারহিট ছবিও ছিল না। তবে রোমান্টিক হিরোর চেয়ে অ্যাকশন আর ডান্সিং হিরো হিসেবেই বলিউডে কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু বোকারিয়া যে ছবি বানাচ্ছিলেন তার সঙ্গে অ্যাকশন বা ডান্সিং হিরো ঠিক খাপ খাচ্ছিল না। কিন্তু ঋষি কাপুর না করে দেওয়ায় হাতে আর তেমন কেউ ছিল না বোকারিয়ার।

এদিকে ফিল্মের শুটিংও শুরু করতে হবে! এ কারণে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন পরিচালক। কিন্তু তার এই সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল সেই প্রমাণ পওে পেয়েছিলেন তিনি। ছবিতে মিঠুনকে সই করিয়ে নেন বোকারিয়া। শুটিংও শুরু হয়ে যায়। এই ছবির আগেই মিঠুন আরো একটি ছবিতে সই করেছিলেন। নাম ‘ডিস্কো ডান্সার’। ছবিটিতে একজন অ্যাকশন হিরো এবং ডান্সিং স্টার হিসেবেই অভিনয় করেছিলেন তিনি। ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছবির শুটিং চলতে চলতেই ১৯৮২ সালে মুক্তি পায় মিঠুনের ‘ডিস্কো ডান্সার’ ছবিটি। সিনেমা হলে মুক্তি পেতেই সুপারহিট হয় সেই ছবি। আর এই ছবির পর থেকেই বলিউড এমনকি গোটা ভারতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মিঠুন। ইতিমধ্যেই ১৯৮৩ সালে ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছবির শুটিং শেষ হয়। শুধু মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু মিঠুনের মতো একজন অ্যাকশন এবং ডান্সিং হিরো ছবিটায় কতটা সফল হবে তা নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে একটা আশঙ্কা ছিল। ছবিটি বাজারে আদৌ চলবে কি না তা নিয়েও একটা দোলাচল ছিল। এ কারণে পুরো শুটিং শেষ হওয়ার পরেও দু’বছর ছবিটির মুক্তি আটকে গিয়েছিল।

কেউ যখন ছবিটির মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছিলেন না, পরিচালক বোকারিয়া নিজেই রিলিজ করেন সেটি। ছবিটি রিলিজ হওয়ার পরই ব্লকবাস্টার হয়। ছবির জন্য সিলভার জুবিলি পুরস্কারও পান বোকারিয়া। দর্শকরাও এই ছবির মধ্যে দিয়ে এক নতুন মিঠুনকে আবিষ্কার করেন। রোমান্টিক হিরো হিসেবেও অসামান্য অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন মিঠুন। ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছবিটি রোমান্টিক হলেও বোকারিয়া মিঠুনের কথা ভেবেই ছবির মধ্যে অ্যাকশন, নাচও জুড়ে দিয়েছিলেন। আর এটাই হয়েছিল বোকারিয়ার সাফল্যের জাদুকাঠি। সফল হয়েছিলেন মিঠুনও। ছবিটি যখন ব্যাপক হিট হলো, ঋষি কাপুর খুব আক্ষেপ করেছিলেন। কেননা এই ছবি করার কথা যে ছিল তারই! অনেক সাক্ষাৎকারে তার এই ভুলের কথা বলতেও শোনা গিয়েছে। পরিচালক বোকারিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, এক রাতে তার অফিসে ‘নসিব আপনা আপনা’ ছবির বিষয়ে কথা বলতে আসেন ঋষি। ঘরে ঢুকেই সামনে রাখা ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছবির পুরস্কারটির উপর চোখ  পড়ে তার। তখন বলে উঠেছিলেন, ‘আরে এই ট্রফিটা তো আমারই পাওয়ার কথা ছিল!’ বোকারিয়া তখন বলেছিলেন, ‘সবই ভাগ্যের ব্যাপার!’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here