এক পুলিশ কর্মকর্তার মানবিকতা 🌍

0
411
কাজী কামাল হোসেন, সংবাদিক, নওগাঁ।

জনাব লিমন রায়। যিনি কয়েকমাস আগে নওগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) হিসেবে কর্মরত ছিলেন । এই মূহুর্তে তিনি দক্ষিণ সুদানের মালাকাল শহরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ‘পুলিশ এ্যাডভাইজার’ হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রচার বিমুখ, সুদর্শণ, বিনয়ী ও সদালাপী এই পুলিশ কর্মকর্তা হঠাৎ করেই ক’দিন আগে সুদান থেকে সেলফোনে নক করে বললেন, ‘কামাল ভাই কেমন আছেন?’

কিছুটা চমকে উঠে বললাম, ‘ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?’

..বললেন ‘ভালো আছি। আমার একটা উপকার করবেন?’

কিছুটা চিন্তিত হয়েই বললাম, ‘বলেন..।’

তিনি বললেন, ‘আজ থেকে দুই বছর আগে নওগাঁর একটি হোটেলে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করেছিলাম। মামলায় হোটেল কর্তৃপক্ষের জরিমানা করা হয় যার এক চতুর্থাংশ আমাকে দেয়া হয় কিন্তু সেই টাকাটা আমি স্পর্শ করিনি। কারন ওটা আমি চাইনি। কারন হোটেল কর্তৃপক্ষ জুলুম করে নিলেও আমি চেয়েছিলাম টাকা সত্যিকারের অভাবী কোন ব্যক্তিকে দেবো। কিন্তু গত দুই বছরেরও বেশি সময় টাকাটা আমার স্টেনো জাহাঙ্গীরের কাছে আছে। বলতে গেলে যোগ্য অভাবী পাইনি। আমি দেশ থেকে বহুদূরে আছি কিন্তু এই মূহুর্তে দেশের যা পরিস্থিতি তাতে সত্যি সত্যি অনেকের করুন অবস্থা। আপনি যেহেতু চারপাশের অবস্থা প্রত্যক্ষ করছেন তাই জানেন এই মূহুর্তে কার বা কার কার জন্য এই টাকাটা উপকারে আসতে পারে। যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আপনাকে আমার হয়ে টাকাটা প্রকৃত অভাবী মানুষদের ক্যাশ অথবা চাল কিনে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

তিনি বললেন, ‘আপনার যেখানে মনে হয়। এই ব্যাপারে আমার কোন বাধা নেই।’

তবে তিনি অনুরোধ করে বলেন ‘সামান্য এই বিষয়টি আর কেউ যেনো না জানে।’

ঠিক আছে বলে চলে গেলাম জাহাঙ্গীর ভাইয়ের কাছে। আমাকে দেখা মাত্র তিনি ওই টাকার সাথে আরো কিছু টাকা আমার হাতে দিয়ে বললেন স্যারের সাথে আমিও একটু অংশ নিতে চাই…।

কাজের বেশখানিকটা চাপের মধ্যে ক’দিন পেরিয়ে গেছে। চুপ করেই ছিলাম, ভেবেছিলাম কাউকে কোন দিন বলবো না। কিন্তু চারদিকে কিছু মিথ্যাচার আর ভণ্ডামির ফটোসেশান দেখে আর গোপন রাখতে পারলাম না।

ক্ষমা চাইছি। আপনাকে দেয়া কথা আমি রাখতে পারলাম না। সত্যি আপনি শুধু মানুষই নন, মহান মানুষ। যুগে যুগে কালে কালে আপনাদের মতো মহান মানুষের জন্ম হয়েছে বলেই হয়তো পৃথিবীটা এতো সুন্দর হয়েছে। সেলুট আপনাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here