করোনাকালে গ্রাহক ও কর্মীর পাশে পদ্মা ব্যাংক

0
63
রাইজিংবিডি.কম:

মহামারি করোনাভাইরাসের এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রাহক ও কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড।

গ্রাহক সেবার প্রতি বিশেষ নজর দিতে বয়স্ক ও বিশেষ গ্রাহকদের হোম সার্ভিসের পাশাপাশি সব গ্রাহকদের নিশ্চিত করেছে অনলাইন সেবা।

অন্যদিকে কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে অন্তত ৩০০ কর্মকর্তাকে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঘরে বসে তারা ব্যাংকের অনলাইন সেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এছাড়া করোনার মতো সংকটে দীর্ঘমেয়াদে অনলাইন গ্রাহকসেবা যাতে দেওয়া সম্ভব হয় সেজন্য নিজেরাই তৈরি করছেন সফটওয়্যার। শিগগিরই যার উদ্বোধন হতে হচ্ছে।

ব্যাংকটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. এহসান খসরু রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরাই প্রথম ব্যাংক, যারা করোনার মতো দুর্যোগে আমাদের প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘরে বসে কাজ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তারা সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এটি একটি বিশাল বিষয়। আর এ কাজের জন্য আমরা নিজেরা সফটওয়্যার ডেভেলপ করেছি। এ সফটওয়্যার আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি। যা বাইর থেকে ক্রয় করতে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা লাগতো। শিগগিরই আমরা তা উদ্বোধনে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কত দিন থাকে? আগামি ছয় মাসেও এর থেকে প্ররিত্রাণ পাবো কিনা আল্লাহ ভালো জানেন। সে কারণে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে এমন আয়োজন করেছি। তবে আমাদের সক্ষমতা ও পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী।’

ব্যাংকটির অনলাইন সেবার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এমডি বলেন, ‘আমাদের অনলাইন সার্ভিসও বেশ ভালো। ঘরে বসে ব্যাংকের যে বিশাল টিম কাজ করছেন, তাদেরকে অনলাইন সেবায় নিয়োজিত করেছি। এক মিনিটে ব্যাংক একাউন্ট খোলাসহ অনলাইনে যাতে গ্রাহক সেবা নেওয়া যায়, সে কারণে অনেক গ্রাহককে অনলাইনে ট্রেনিং পর্যন্ত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো। আমাদের শাখাগুলো থেকে গ্রাহকদের হোম সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা বয়স্ক রয়েছেন, তাদের জন্য এই সেবা সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো করছে।’

তিনি বলেন, ‘সংকটকালীন বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক ৫০ শতাংশের বেশি বন্ধ রেখেছে। সেখানে আমরা আমাদের শাখাগুলো কখনোই বন্ধ রাখিনি। আমাদের ৫৭টি শাখাই খোলা রেখেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের কোনো শাখাই বন্ধ রাখিনি। আমরা গ্রাহকদের এটাই বলি, আমরা সব সময় আপনাদের পাশেই আছি। আপনাদের জন্য আমাদের হোম সার্ভিসগুলো বাড়িয়ে যাবো।’

ব্যাংক সূত্রে আরো জানা যায়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে প্রথম থেকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যাংকটি অধিক সচেতন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পর থেকে কর্মকর্তাদের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অনেক গ্রাহকদেরও পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। রাজধানী ও ঢাকার বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত করার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার ঝুঁকি মোকাবেলায় সকল কর্মীদের পিপিই, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। যারা ঢাকার বাইরে গেছেন তাদের অফিসে প্রবেশের আগে কভিড-১৯ পরীক্ষা করে অফিস করার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নিশ্চিত করা হচ্ছে, কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা। আর গ্রাহকদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে শাখায় প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়া মুখে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রাহক সেবা দেয়া হচ্ছে। এমনকি কোনো গ্রাহকের যদি মাস্ক না থাকে সেক্ষেত্রে গ্রাহকদের মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে।

ব্যাংকের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে এক নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রথম দিন থেকেই নারী কর্মীদের সুরক্ষায় বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। পদ্মা ব্যাংক নারী বান্ধব। কর্মীদের শতভাগ বেতন ও বোনাস দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ব্যাংক সূত্রে আরো জানা যায়, স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকদের টাকা দেয়ার সময় আগেই জীবানুমক্ত করা খামের ভিতরে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ছোট ব্যাংক হিসাবে সাধ্যমত গ্রাহক ও কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। করোনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কোনো গ্রাহক যদি বাসায় কোনো পেমেন্ট নিতে চান সেক্ষেত্রে ব্যাংক গাড়ির সুবিধা দিয়ে গ্রাহক সেবা দেয়া হচ্ছে।

২০১৮ সালের শুরুর দিকে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংকের যাত্রা শুরু। ব্যাংকের ৬৮ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা কিনে নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। বর্তমানে দেশব্যাপী পদ্মা ব্যাংকের ৫৭ টি শাখা রযেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here