করোনায় নানা কর্মকান্ডে যুবনেতা পোদ্দার লিটন

0
295

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনীতিকদের নানা কর্মকান্ড নিয়ে সারা দেশের মানুষের মাঝে যখন বিরূপ ধারণা বিরাজমান, সেইসময় ক্ষমতার বলয়ে থাকা এক যুব নেতার কর্মকান্ড ব্যাপক প্রসংশা কুড়িয়েছে। করোনাকালীন এই সময়ে মানুষের পাশে থাকার যতোটা পথ আছে সব পথেই তিনি হাঁটছেন আন্তরিকভাবে। সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সহায়তা, ঘরে বসে শিক্ষা, এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নতুন কাপড়, ঈদে অসচ্ছল মানুষদের জন্য কুরবানীর ব্যবস্থা করা এমনতর নানা কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বগুড়ার আলোচিত এই যুব নেতার নাম শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, যিনি লিটন পোদ্দার নামে সমধিক পরিচিত। তিনি বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি।
গত মার্চ মাসে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর বগুড়ার মানুষ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েন। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীনতার কারণে সামাজিক দূরত্ব, কোয়ারেন্টাইন, স্বাস্থ্য বিধি মানা এসব নিয়ে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। সেসময় বগুড়ার তরুণ ও যুবকরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে মাঠে নামে। এসব তরুণ ও যুবকদের দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তাঁদের পাশে বগুড়ার উল্লেখয্গ্যো কোন নেতা এগিয়ে না এলেও জেলা যুবলীগের সভাপতি লিটন পোদ্দার এগিয়ে আসেন। জেলার ১২টি উপজেলায় ‘করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতি’ নাম দিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ শুরু করলে তিনি হয়ে ওঠের তাদের মুখ্য পরামর্শক। জেলার কোন মানুষ করোনাকালীন সময়ে যেন অভূক্ত ও চিকিৎসাহীন না থাকে সেই উদ্যোগ নেয় করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতি। এই উদ্যোগ সফল করতে বগুড়ার বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে যান লিটন পোদ্দার, সেইসঙ্গে বগুড়ার চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করে দেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি জেলা পুলিশের সহায়তায় ডোর টু ডোর সার্ভিস চালু করে করোনাকালে ঘরে থাকা মানুষের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি এগিয়ে আসেন।

শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনের কাজের মধ্যেই তিনি করোনাকালীন কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ রাখেননি। নিজ দলের কর্মীদের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে বগুড়া শহর ও সদর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে করোনার জন্য কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন তিনি। এরপর বগুড়ার যেসব শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন তাদের নিয়ে অনলাইন শিক্ষা চালু করেন। ঘরে বসেই বগুড়ার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে সেজন্যই তিনি বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়াদেও কাজে লাগান। এছাড়া সব মানুষকে করোনাকালীন সময়ে মানুষেে পাাশে দাঁড় করাতে শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী করোনেশন ইন্সটিটিউশনের প্রাচীর লাগোয়া একটি শেডে গড়ে তোলেন মানবতার দেয়াল। সেখানে পোশাকের পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা হয়, যেন যার যে পণ্যের প্রয়োজন তা নিয়ে যেতে পারে এবং বাড়িতে থাকা উদ্বৃত্ত সামগ্রী সেখানে রেখে যেতে পারে অন্যদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
এরই মাঝে চলে গেছে দুটি ঈদ। এই দুই ঈদেও তিনি ছিলেন অসহায় মানুষদের পাশে। ঈদুল ফিতরে কর্মহীন মানুষদের মাঝে সেমাই, চিনি, আতপ চালসহ অন্যান্য ঈদ সামগ্রী বিতরণ এবং কুরবানী ঈদে করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতির মাধ্যমে তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল কুরবানী করে অসচ্চল মানুষের মাঝে মাংস বিতরণে করতে উদ্যোগ নেন তিনি। একই সময়ে বগুড়া শিশু পরিবারের প্রায় দেড়শ’ নিবাসীর জন্য নতুন পোশাক ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীগ্রন্থ বিতরণ করেন তিনি। সর্বশেষ জাতির পিতার জন্মজয়ন্তীতে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার উদ্যোগে বগুড়া মূক ও বধির বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন নতুন পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী।

করোনাকালীন সময়ে নানামুখী তাঁর এই কর্মকান্ড সর্বমহলেই প্রসংশিত হচ্ছে। করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতির প্রধান সমন্বয়ক সাংবাদিক রাকিব জুয়েল বলেন, করোনা শুরুর পর যখন বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে কাজ শুরু করা হয়, সেসময় মাঠে আমরা উল্লেখযোগ্য কোন রাজনীতিককে পাইনি। তরুণ যেক’জন রাজনীতির মাঠে ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম শুভাশীষ পোদ্দার লিটন। যিনি নিজে দলীয় কর্মীদের দিয়ে করোনাকালে সংকেটে থাকা মানুষের পাশে থাকার পাশাপাশি করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতি নামে আমাদের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকান্ডে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। তাঁর ভূমিকার কারণেই খাদ্য সহায়তার মতো বিশাল কর্মকান্ড পরিচালনা সম্ভব হয়েছে।
শুভাশীষ পোদ্দার লিটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, করোনা একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই সংকট মোকাবেলায় সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার যে আহ্বান জানান এবং যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও ষাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশ ছিলো করোনা মোকাবেলায় মাঠে থাকার। আমি প্রধানমন্ত্রীর সেই আহ্বানে এবং যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির নির্দেশে সাঁড়া দিয়েছিমাত্র। আর রাজনীতিকদের কাজই মানুষকে নিয়ে, সুখে-দুঃখে সেই মানুষদের পাশে থাকাই রাজনীতিকদের প্রধান কাজ বলে আমি বিশ্বাস করি। সেই বিশ্বাস থেকেই আমি কাজ করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here