করোনা নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কারফিউ একমাত্র নিরাময়ক”

0
293

এসএম আল-আমিন, সিচুয়ান, চায়না:

করোনা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত ভয়াবহ থেকে ভয়াবহ হচ্ছে। আমরা ইতালি পশ্চিমা দেশের মারাত্মক অবস্থা দেখে অনেকে আতংকিত হই কিন্তু নিজেরা অসচেতন। লকডাউন , সরকারী সকল নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইচ্ছামত ঘোরাঘুরি, টাটকা বাজার খাওয়ার লোভ এখনো সামলাতে পারছিনা। পুলিশ ডিউটিতে আসার আগেই আমাকে বাজারে যেতে হবে টাটকা মাছ, মাংস, সবজি খেতে হবে, প্রতিদিনের বাজার প্রতিদিন করতে হবে; এইযে মানসিকতা আমাদের, এটার জন্য আপনার আশেপাশের বর্তমান সুন্দর অবস্থা ইতালীয় বা আমেরিকার অবস্থায় পরিণত হতে খুব বেশি দেরী নেই….

অনেকে বলছে, চায়না কিভাবে নিয়ন্ত্রন করল? আরে ভাই চায়না আপনার মতো অসভ্য মানসিকতা লালন করেনা। চায়নার সভ্য নাগরিকগণ সরকারী প্রতিটা নির্দেশনা পক্ষাণুভাবে পালন করার চেষ্টা করে। এখানে চুরি করে দোকান খোলা, অযুহাতে বাজার যাওয়া, চা খেতে বের হতেই হবে, অযথা রাস্তায় বের হওয়া, এসব এরা করেনা। এরা দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

নিজের ভালো নাকি পাগলেও বোঝে, কথায় আছে। কিন্তু সকল নির্দেশনা অমান্য করে যেভাবে দায়সারা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে আমরা চলাফেরা করছি, আমরা যে বর্বর, নোংরা, অসভ্য> এতে কি তার প্রতীয়মান হচ্ছেনা। পাগল ত পাগল ই কিন্তু আমরা যে অসভ্য এটাই তার প্রমাণ।

বিভিন্ন ভার্সুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের যে অবাধ বিচরণ ও কান্ডজ্ঞানহীন পদচারণা দেখা যাচ্ছে, এতে এ জাতীর ভয়াবহ দুর্দশা ঠেকানো সম্ভব নয়।

প্রথমত বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতিগত সমস্যা এবং নমনীয় নীতি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেখুন, যে দেবতা যে ফুলে তুষ্ট তাকে, সেটা দিয়েই পূজা দেওয়া উচিত। আমরা বাংগালী জাতি লকডাউন, উপদেশ, অনুরোধ এসবে শুধরাবোনা। কেননা, আমাদের মাথা এতটাই মোটা এবং কানের ছিদ্র এতোটাই ছোট যে, কানে বা মস্তিষ্কে এই অনুরোধ ঢুকবেনা।

বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রনে লকডাউন নয়, কারফিউ জারি করুন। অন্তত ২ সপ্তাহের জন্য হলেও কারফিউ জারি করুন। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয়, সেনাবাহিনীকেও পূর্নাজ্ঞভাবে দেশের প্রয়োজনে এই মূহুর্তে ব্যবহার করুন।

অনেকে বলেন না খেয়ে মানুষ মরবে। আরে ভাই দেশে এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়নি। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ক্ষুদ্র পর্যায়ে প্রশাসন যেভাবে মানুষের পাশে দাড়িয়েছে, সেটাই বৃহৎ আকারে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেতে পারে।

দেখুন, না খেয়ে যদি মারাও যায় তবে সে এককভাবে বা এক পরিবার মারা যাবে। কিন্তু একজন করোনায় আক্রান্ত হলে তার অবাধ বিচরনে সে সহ পুরো সমাজ ধবংস হওয়ার আশংকা রয়ে যায়। এক্ষেত্রে আগে করোনা থেকে বাঁচুন।

সরকারের ধীরে সুস্থে করোনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহন এ জাতীর জন্য ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে। সুতরাং, দেশে কারফিউ দিন দেশটাকে বাঁচাতে। ধীরস্থির ব্যবস্থা করোনা মোকাবেলা সম্ভব নয়।

আক্রান্ত হচ্ছেন, লকডাউন এর মধ্য নতুন কতিপয় বাড়ি আবার লকডাউন করছেন। এতে কি হচ্ছে? আগের লকডাউন যে অকার্যকর সেটাই প্রতীয়মান করছেন? দেখুন কঠোর আইনি প্রয়োগ বা পদক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশে করোনা মোকাবেলা বা করোনা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব নয়। যে দেশ যত দ্রুত নাগরিকদের বাড়িতে আটকে রাখতে পেরেছে, সে দেশ তত দ্রুত এ করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রনে রাখতে পেরেছে।

অনুগ্রহপূর্বক এই লকডাউন লকডাউন খেলা না খেলা জরুরী ভিত্তিতে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য দেশে কারফিউ জারি করুন। আবার এটা দেরি করতে গিয়ে এমন অবস্থায় তৈরি করিয়েন না, যাতে কারফিউ টাও অকার্যকর হয়ে যায় বা কাজে না আসে।
__________________
এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আপনার মতামত ভিন্ন হতেই পারে। সাবধানে থাকুন, বাড়িতে থাকুন, সুস্থ থাকুন।
smalamin.newsru@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here