আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে বেড়েছে বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম আর কুঁচিয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায় নিত্যপণ্য দ্রব্যের মধ্যে বর্তমানে পিয়াজের বাজার দাম উঠানামা করছে, বেড়ে গেছে চাল ও আলুর দাম। তাছাড়া অন্য দ্রব্যের মূল্য অনেকটা আগের মতোই রয়েছে। তবে চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বেকায়দায় রয়েছে কুঁচিয়া চাষীরা। স্থানিয়রা বলছেন করোনা ভাইরাস এসবের প্রধান কারণ।
গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সান্তাহারে দুটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার যে পিয়াজের দাম ছিলো প্রতি কেজি ৩৫টাকা সেটি শুক্রবারে বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০টাকা। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা হতে পারে এমন খবর শুনে পরেরদিন গতকাল শনিবার সেসব পিয়াজের দাম কমিয়ে ৪৫টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যান সবজির দাম তেমন একটা না বাড়লেও আলুর দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৪টাকা। বর্তমান বাজারে আলু ২২-২৪টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চাল বাজারে ঘুরে দেখা যায় (স্বর্ণা-৫) প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে যেখানে স্বর্ণা-৫ চাল বিক্রি হতো ৩১টাকা বর্তমানে সেখানে ৩৬ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। যে যার ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে পেঁয়াজের কেজি ৩৫ টাকা। সেটা শুক্রবারে কিনতে গিয়ে দেখি ৭০ টাকা। চালের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সান্তাহার পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ী আইযুব আলী, মতিন হোসেন ও তাজ উদ্দীন বলেন, করোনা আতঙ্কে অনেকেই অতিরিক্ত পণ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। যার ঘরে পণ্য লাগবে ২ কেজি, তিনি যদি কিনেন ৭কেজি তাহলে বাজারে একটা সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
ভোক্তা শাহীন আলম তার দাবি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেটরা করুণ পরিস্থিতি তৈরি করার আগে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে তারা ইচ্ছে মতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করে দিতে পারে।
উপজেলার সান্তাহারের চাল ব্যবসায়ী রামু বলেন, আগে ধানের মণ ছিল ৮শ টাকা, এখন ১টাকায় কিনতে হচ্ছে। প্রতিমণে বেড়েছে ২শ টাকা। এজন্য স্বাভাবিকভাবেই চালের দামও বেড়ে গেছে। আমাদের বেশি দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলেই দাম বাড়তি করতে হচ্ছে।
এদিকে উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্লাবন ভূমি উপ-কেন্দ্রের আওতায় বেশ কিছু এলাকার চাষীরা কুঁচিয়া চাষ করে আসছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে এসব কুঁচিয়া বপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কুঁচিয়া চাষীরা।
আদমদীঘি উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম আব্দুল্লাহ্ বিন রশিদ মুঠোফোনে জানান, বাজারে নিত্যদ্রব্যের মূল্য কেউ যদি বৃদ্ধি করে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here