দৃষ্টি২৪ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে নিয়ে রহস্যের শেষ হচ্ছে না কিছুতেই। বিভিন্ন মিডিয়ায় নানা রকম তথ্য। তার কোনোটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ কোনো মিডিয়া ব উত্তর কোরিয়া থেকে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না যে, আসলে কি হয়েছে কিম জং উনের। এরই মধ্যে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইটে সাম্প্রতিক কিছু ছবিতে একটি বিলাসবহুল বোটের মুভমেন্ট বা চলাচল দেখা যাচ্ছে। এই বোটটি মাঝে মাঝেই ব্যবহার করেন নেতা কিম জং উন ও তার সঙ্গীরা। ওনসানের কাছে তাদেরকে এই বোটে করে চলাচল করতে দেখা গেছে এর আগে।

সেই বোটটিই আবার চলাচল করেছে ওই এলাকায়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে। কিম জং উন ওই বোটে করে ওনসানের অবকাশ যাপন করছেন। নজরদারিকারী বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষকরা এমন কথা বলেছেন।
রয়টার্স লিখেছে, গত ১৫ই এপ্রিল ছিল দেশের প্রতিষ্ঠাতা ও কিম জং উনের দাদা কিম ইল সাং-এর জন্মদিন। এ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না কিম জং উন। কিন্তু এমন উপস্থিতি একরকম বাধ্যতামুলক সেখানে। কিম জং উনের অনুপস্থিতিতে জল্পনা কল্পনা ডালপালা ছড়াতে থাকে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত কোথায় আছেন এই নেতা তা কেউ হলফ করে বলতে পারেন না। কেউ বলছেন, তিনি মারা গেছেন। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে। কেউ বলছেন, তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে ১৫ই এপ্রিলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি কিম। কিন্তু ১৫ই এপ্রিল পেরিয়ে গেছে এখন থেকে ১৫ দিন আগে। তারপর কোনো মাধ্যমে দেখা দেননি কিম।
এ অবস্থায় মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার ওপর নজরদারি ওয়েবসাইট এনকে প্রো রিপোর্ট প্রকাশ করে যে,  বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে সেইসব বোট, যা কিম জং উন মাঝে মাঝেই ব্যবহার করেছেন। এতে মনে করা হয়, কিম জং উন ও তার সঙ্গীরা বর্তমানে ওনসান এলাকায় থাকতে পারেন। ওদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উত্তর কোরিয়ার ওপর নজরদারিকারি প্রজেক্ট ৩৮ নর্থ রিপোর্ট করে যে, স্যাটেলাইটের কিছু ছবি পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে ওই ওনসান অঞ্চলে একটি ট্রেন। এ ট্রেনটি তার ভিলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। এই ট্রেনটি কিম জং উন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ধারণা করা হয়, কিম জং উন ওই অঞ্চলে থাকতে পারেন। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও মনে করছেন , ওই এলাকায় থাকতে পারেন কিম। হতে পারে সেটা করোনা ভাইরাস থেকে দূরে থাকার জন্য। এতে মিডিয়ায় তার অসুস্থতা নিয়ে যে রিপোর্ট ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়েও সন্দেহ সৃষ্ট হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here