খামারে পানি, হতাশ তাড়াশের ৫০০ খামারি

0
46

তারাশ থেকে গোলাম মোস্তফা:

মহামারী করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব ও বন্যা  অবনতির কারণে কোরবানির পশু নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন চলনবিল অধ্যূষিত তাড়াশের খামারিরা। লাভের আশায় পশুগুলোকে লালন-পালন করে শেষ পর্যন্ত ক্রেতাসংকট ও সঠিক দাম না পেয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাড়াশের আট ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলে ৫০০ পশুর খামার রয়েছে।

এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এসব খামারিরা দেশীয় ও ক্রস প্রজাতির প্রায় ২৩ হাজারের মতো পশু মোটা-তাজা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেশিরভাগ খামারের সেডের মধ্যে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। খামারিরা পশুগুলো বিক্রি করতে না পেরে বসতবাড়ির উঁচু ভিটায় ও সড়কের উপর বেধে রেখেছেন।

বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের আবুল কালাম নামে এক খামারি জানান, তিনি এ বছর ৩০টি গরু মোটা-তাজা করেছেন। বেশ কয়েকটি হাট ঘুরে ক্রেতাসংকট ও সঠিক দাম না পেয়ে আজ অবদি (বুধবার) মাত্র দুইটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। তাও লোকসান গুণে। ৮/১০ দিন আগেও তার খামারের যে সব গরুর ৭০/৭৫ হাজার টাকা দাম হতো। অথচ এখন ক্রেতারা সেই সব গরু ১৫/২০ হাজার টাকা কমে কিনতে চাইছেন।

আবুল কালামের মতো খামারি দিদার হোসেন, আব্দুল আহাদ, আব্দুল হালিম, বাবলু মিঞা প্রমূখ অনুরুপ দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে লাভ তো দূরে থাক, গরু বিক্রি করে আসল তুলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

তারা আরো বলেন, বন্যার পানিতে খড়ের পালা পঁচে গেছে। কৃত্তিম গো-খাদ্য দিয়ে গরু পালন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এদিকে সগুনা ইউনিয়নের নওখাদা গ্রামের খয়বার হোসেন জানান, পেশায় তিনি একজন কৃষক। চাষ আবাদের পাশাপাশি কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য তিনটি গরু ও দুইটি ছাগল মোটা-তাজা করেছেন। তবে আশানুরুপ দাম না পেয়ে বিক্রি করতে পারছেন না।

স্থানীয় ব্যাপারি ও মাংসের ব্যবসায়ি সোহান প্রামানিক জানান, অন্যান্য বছরের মতো পশুর হাটে মৌসুমী ব্যাপারি পশু কিনতে আসছেন না। সপ্তাহ খানেক আগেও গরুর মাংস ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন ৪০০/৪২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ জে এম সালাউদ্দিন দৈনিক কলম সৈনিককে বলেন, কয়েকদিন আগেও যে সব খামারি পশু বিক্রি করেছেন তারা তুলনামূলক ভালো দাম পেয়েছেন। তাদের উচিৎ পশুগুলো রেখে কোরবানির কিছুদিন পর বিক্রি করা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here