স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির ফুটবলার তিনি। উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ১ ইঞ্চি! হয়ত এ কারণেই ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন এলটন জাভিয়ের গোমেজ। তবে ড্রিবল স্কিলও চমৎকার এলটনের। লম্বা কোঁকড়ানো চুলে অনেকটা আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছাপ। খেলেনও অ্যাটাকিং মিডে। এজন্য এলটনের ডাক নাম হয়ে যায় ‘এলটন মারাদিনহা’।

ম্যারাডোনা যে বছর আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দেন, সেবারই পৃথিবীর আলোর দেখেন এলটন। ক্লাব ক্যারিয়ারে হাতেখড়ি ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্লাব কোরিন্থিয়ান্সে। ২০০৪ সালে মূল দলে জায়গা পান।

তবে কোরিন্থিয়ান্সে থিতু হতে পারেননি। ২০১১ সালে সৌদি আরবের ক্লাব আল ফাতেহতে যোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত আসলে কোনো ক্লাবেই বেশিদিন খেলার সুযোগ হয়নি এলটনের। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী রোমানিয়ান ক্লাব স্টুয়া বুখারেস্টে ২০০৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।  তাদের হয়ে মাঠে নামেন মাত্র ৮ ম্যাচে। তবে স্টুয়া বুখারেস্ট ভক্তরা এলটনকে এতটাই পছন্দ করেছিল যে ২০০৯ সালে ভোটাভুটিতে ক্লাবটির দশক সেরা দলে জায়গা পেয়ে যান তিনি।

আল ফাতেহ ক্লাবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন এলটন। ১২১ ম্যাচে গোল করেছেন ৪৮টি। ২০১৩ সালে জিতেছেন সৌদি প্রিমিয়ার লীগ। এরপর তাকে আল ফাতেহর ভক্তরা  তার নাম দেয় ‘এলটন আরাবিয়া’ ।  রাস্তায় তাকে দেখতে পেলেই ছবি তোলার জন্য ছুটে আসতো ফুটবলপ্রেমীরা। একবার ভক্তদের আবদার মেটাতে গিয়ে বিপদেই পড়েন এলটন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল প্রায়। সে ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে এলটন বলেন, ‘নারী ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলাম। এরপরই সিকিউরিটি গার্ড এসে আমাকে গ্রেপ্তার করলো। গাড়িতেও তুলে ফেলেছিল। ক্লাবের শেখকে ফোন করে রেহাই পাই। বড্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম সেদিন।’

সৌদিতে অনেক সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হয় এলটনকে। এরপরও এখানকার লীগে খেলতে পেরে খুশি তিনি, ‘আমি সৌদিতে ৯ বছর ধরে আছি। আমার কোনো অভিযোগ নেই। শান্তিতে জীবন যাপন করছি এখানে। এখানকার মানুষও আমার খুব অনুরক্ত।’ এ বছর সৌদির আরেক ক্লাব আল-ওয়েহদাতে যোগ দিয়েছেন ‘খুদে ম্যারাডোনা’ খ্যাত এলটন। আরও কিছুদিন নিজের পায়ের কারিকুরিতে দশর্কদের আনন্দ দিতে চান এই ফুটবলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here