চোরাকারবারিদের বন্দি দশা থেকে এক নারীকে উদ্ধার করলো শাজাহানপুর থানা পুলিশ

0
699
ফাইল ফটো
সুমন সরদার

চোরাকারবারির সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা দিনদুপুরে তালাবদ্ধ রেখে এক নারীও তার ছেলেকে আটকে মারপিট, শ্লীলতাহানির ও লুটপাটপাট চালানোর তিন ঘন্টা পর উদ্ধার করলো পুলিশ। ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করলেও মূল হোতারা পালিয়েছে। ঘটনাটি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে।

বুধবার রাতে এঘটনায় শাজাহানপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা ওই নারী।

মামলার আসামিরা হলেন, উজেলার রহিমাবাদ এলাকার অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল খালেক (৪৮), হারুনউর রশিদ (৩৫), আব্দুল মতিন (১৭), আব্দুল মালেক (৪৫), শহরের টাউন কলোনী এলাকার আতাউর রহমান ফটিক (৫২) এবং তরু মিয়া (৪৫)।

আসামিদের মধ্যে আতাউর রহমান ফটিক এবং তরু মিয়াকে গ্রেপ্তার কেরেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানাগেছে, বুধবার সকাল ৯টারদিকে আসামি আব্দুল খালেক সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহীনি লাঠিসোঠা নিয়ে ওই নারীর চারতলা ভবনের নিচ তলায় বিদ্যুত এবং গ্যাস সংযোগ প্রথমে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর পর বসবাসরত তিন তলার শয়ন কক্ষে গিয়ে ওই নারীকে সন্ত্রীরা টানা হেচরা করে । এতে ওই নারীর ১৭ বছরের ছেলে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারপিট করে। এরপর আলমারি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং দুই লাখ টাকা মূল্যের সোনাগহনা লুটপাট করে। পাশাপাশি বাড়ি ঘর ভাঙচুর শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আতাউর রহমান ফটিক এবং তরু মিয়াকে হাতে নাতে আটক করে থানা নিয়ে আসেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সংবাদ পেয়ে বেলা ১২টার দিকে আবারও মামলার প্রধান আসামি আবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল খালেক ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসী বাহীনি নিয়ে ওই নারী ও তার ১৭ বছরের সন্তানকে তালবদ্ধ করে রাখে।

পরে ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে বিকেল ৩টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে এলাকাবাসির সহযোগিতায় ওই নারী ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পুলিশি প্রহরায় তাদের বাড়ি পৌঁছে দেন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওই নারীকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি এবং নির্যাতন করে আসছিল আসামি খালেকেসহ তার সংঘবদ্ধ বাহীনি। ঘটনার দিন প্রকাশ্যে ওই নারীসহ তার সন্তানকে মারপিটসহ শ্লীলতা হানী ঘটনায়। নগদ টাকা পয়সা ও স্বর্নালংকার লুট করে নেয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। এরপর তালবদ্ধ নারীসহ তার সন্তানকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এঘটনা থানায় একটি মামলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খালেক একজন চোরাকারবারি গ্যাংয়ের প্রধান। কিছুদিন আগে ট্রাক চুরি এবং কয়লা লুটের ঘটনার প্রধান আসামি সে। আদালত থেকে জামিনে এসে আবারও অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে আসামি খালেক এবং ওই নারীর বিবাহ হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে এক মেয়ের জন্ম হয়। পরে খালেক বিভিন্ন প্রতারানার মাধ্যমে ওই নারীর সম্পদ ও অর্থ তছরুপ করতে শুরু করে। এছাড়া আরেকটি বিয়ে করে খালেক। এঘটনার পর ২০২০ সালে খালেককে ডিভোর্স দেন ওই নারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here