ছাই দিয়ে রাস্তা নির্মানের সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আবারও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

0
1010

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ছাই দিয়ে রাস্তা নির্মানের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সেই প্রকল্প বাস্তায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া করোনায় বিপর্যস্থ্য অসহায় মানুষ তার অফিসে গেলে তাদের তাড়িয়ে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমানে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দায়িত্বে আছেন।

গত শনিবার (২০এপ্রিল) জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তার নিকট তার (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন শাজাহানপুরের উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত-আরা-মিরা।

ওই অভিযোগ পত্রে সুপারিশ করেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সাংসদ রেজাউল করিম বাবলু, শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু, ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ।

অভিযোগ পত্রে সুপারিশ প্রসঙ্গে বগুড়া-৭ আসনের সাংসদ রেজাউল করিম বাবলু বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি যেন সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট দেয়া অভিযোগ পত্রে সুপারিশ করেছেন তিনি।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারের গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের সকল প্রকল্পের গুনগতমান যাচাই না করেই চূড়ান্ত বিল প্রদান করছেন। এর কারণ হলো গোপনে অর্থনৈতিক লেনদেন করছেন এই প্রকল্প কর্মকর্তা।

প্রকল্প অফিসের নিয়ন্ত্রনাধীন টি আর/কাবিখাসহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রানের ব্রীজ, ৪০দিনের কর্মসূচী, প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান এবং এইচবিবি প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
নিম্নমানের সোলার স্থাপন করে কোম্পনির নিকট থেকে কমিশন নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে এই প্রকল্প কর্মকর্তার রিরুদ্ধে।
এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে তার নিকট অসাহায় মানুষ দাড়স্থ্য হলে তাদের সাথে খারাপ আচরন করে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাসুন্নাহার শিউলির বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয় লিখিত অভিযোগ পত্রে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত-আরা-মিরা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলীর বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগের প্রমান রয়েছে। তদন্ত শুরু করে প্রমান গুলো তদন্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করা হবে।

এনিয়ে শাজাহানপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলীর সাথে একাধিকাবার মূঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল দৃষ্টি২৪ ডটকমকে জানান, শাজাহানপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি সম্বন্বয়ের অভাব বলে তিনি মনে করছেন। তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য এই অভিযোগ পত্রটি শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট পাঠানো হবে।

তবে তিনি আশা করছেন বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খন্দকার টোলায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজে মাটির বদলে বিভিন্ন মিল-চাতালের ছাই ব্যবহার করা হয়েছিল।
উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা একটি মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ারের পশ্চিম পাশে জনৈক আনোয়ারের বাড়ি থেকে জুয়েল খানের বাড়ি পর্যন্ত উপজেলার টিআর প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় দুইমাস পূর্বে ২০০ মিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু করে ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান লিটন।
প্রকল্প সভাপতি লিটন অনিয়ম ও দুর্নীতি করাসহ বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করার মানষে ওই রাস্তা নির্মাণে দু’ধারে প্যালাসাইড করে মাটি-বালির বদলে ব্যবহার করছিল বিভিন্ন চাতাল-মিলের পরিত্যক্ত ছাই।
এ রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শেষ করার আগেই সমাপ্ত দেখিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ দুই কিস্তিতে উত্তোলন করে নেয়।
তৎকালিন সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন বর্তামানে শাজাহানপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামছুন্নাহার শিউলী।
রাস্তাটিতে এহেন অনিয়ম ও দুর্নীতি করার অভিযোগের কারণ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকেই দায়ি করেছিলেন স্থানীরা।
পরে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও তদন্ত শুরু করেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here