শেষ পর্যন্ত ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ মাঠে গড়াবে তো! যত দিন যাচ্ছে লীগ নিয়ে ক্রিকেটারদের মনে শঙ্কা বেড়েই চলছে। জানাগেছে প্রায় সব ক্রিকেটারই নিজেদের মধ্যে এই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য মিলেছে। ১৯ মার্চ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন করোনা ভাইরাসের কারনে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন দেশের সব ধরণের ক্রিকেট। একটি মাত্র রাউন্ড হয়ে বন্ধ হয় ঢাকা লীগ। বিসিবি সভাপতির আশা  ছিল ১৫ এপ্রিলের পর আবার মাঠে ফিরবে ক্রিকেট। কিন্তু সেই আশার গুড়ে-বলি। দিন দিন দেশেরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১১ হাজার। মৃত্যুর সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই বিসিবি কোন ভাবেই ঝুঁকি নিবেনা। এই সব কারণে  শঙ্কা বাড়ছে। গুঞ্জন রয়েছে লীগের সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই। শেষ পর্যন্ত এ মৌসুমের আসর বাতিল হলে এক রাউন্ড খেলা শীর্ষে থাকা দলকেই ঘোষণা করা হবে চ্যাম্পিয়ান। তার মানে আবহানী চ্যাম্পিয়ান হচ্ছে! তবে এমন কথা উড়িয়ে দিলেন সিসিডিএমের সদস্য সচিব আলী হোসেন। দৈনিক মানবজমিনকে তিনি বলেন, ‘ এটি ঠিক আমরা আলোচনা করছি। দুই সপ্তাহের মধ্যেই একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে আমাদের প্রথম কাজ হলো লীগ যে ভাবে হোক চালু করা। ১০ ভাগ সুযোগ থাকলেও চাই লীগ শুরু  হোক। তাই এখনই কাউকে চ্যাম্পিয়ান ঘোষনা করা নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি।’
মে মাসে হতে যাওয়া বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর বাতিল হয়েছে। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরও স্থগিত। সেপ্টেম্বরের শ্রীলঙ্কা সফর হবে কিনা তার ঠিক নেই। নিউজিল্যান্ড সফরও স্থগিত। তাই সামনে টাইগারদের কোন অন্তুর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ  নেই। তবে আক্টোবরে অস্ট্রেলিয়াতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভবনা এখনো শেষ হয়নি। আছে বিপিএল হওয়ার সম্ভাবনাও। এসব কারনেই লীগ হতে পারে বলেই মনে করেন আলী হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে লীগ না হওয়ার কোন কারণ দেখছিনা। হ্যা, সামনে বৃষ্টি মৌসুম আছে। আমি মনে করিনা তাতে কোন বড় সমস্যা হবে। যদি বিপিএল হয় আমি বলবো তার আগে অবশ্য ছোট পরিসরে হলেও যেন ঢাকা লীগ আয়োজন হয়, আমাদের সেই চেষ্টাই থাকবে। কারণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় এখন ক্রিকেটারদের খেলারও বেশ প্রয়োজন আছে। নয়তো এতো দিনের ক্রিকেটের বাইরে থাকলে তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে। অর্থিক ক্ষতিতো আছেই।’
তবে এরই মধ্যে লীগ না হওয়ার যে গুঞ্জন ছড়িয়ের পড়েছে তাও অমূলক নয়। কারণ করোনা পরিস্থিতি যে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে তাতে জুনের আগে কোন কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদিও বেশির ভাগ ক্লাবই লীগ হওয়ার পক্ষে। বিশেষ করে যে সব ক্লাব এরই মধ্যে ক্রিকেটারদের ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ টাকা দিয়েছে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লাবের কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ২৫ শতাংশ টাকা ক্রিকেটারদের দিয়ে দিয়েছি। কোন কোন ক্লাব তার চেয়েও বেশি দিয়েছে। যদিও বেশির ভাগ ক্লাবই এই কাজটি করেনি। তারাই চাইছে যেন খেলা না হয়। তবে আমরা চাই যেন ঢাকা লীগ ছোট পরিসরে হরেও মাঠে গড়ায়। বিসিবি অবশ্য এই বিষয়টা ক্রিকেটারদের স্বার্থেই চিন্তা করবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here