তাড়াশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বেদখলের অভিযোগ

0
112

তাড়াশ থেকে গোলাম মোস্তফা:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তালম ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামের জন্তিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বেদখলের অভিযোগ উঠেছে চার সহদর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোজাম হোসেন, তোজাম আলী, চাঁদ আলী ও রেজাউল করিম ঐ গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে। এদিকে মাদ্রাসাটির এমন পরিস্থিতি নিয়ে গ্রামবাসী ও দখলদারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে (২৫ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকালে দেখা যায়, মাদ্রাসাটির বারান্দায় বসে নূরানী কায়দা, নূরানী আমপাড়া ও কোরআন শরীফ পড়ছে বেশ কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী। আর শ্রেণি কক্ষের দখল নিয়ে লাঠি সোটা নিয়ে বসে আছেন সেই চার সহদর ভাই ও তাদের স্বজনরা। অপরদিকে বাহিরে দাঁড়িয়ে আছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও গ্রামের কয়েক শ’ সাধারণ লোকজন।

ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসী মুফতী মাওলানা মোন্নাফ হোসেন, মাওলানা ইসরাফিল হোসেন, মাওলানা রজব আলী, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা মাসুদ রানা, মাওলানা সেলিম রেজা, হাফেজ মিলন হোসেন জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল অবদি তারা জন্তিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসাতেই পড়ালেখা করেছেন।
তারা আরও জানান, শুধু চেয়ার, টেবিল ও বসার বেঞ্চ নয়, দখলদাররা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধান-চালও রাতের আঁধারে নিয়ে গেছেন।

শিক্ষার্থী আব্দুল বারি, আলিফ হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, তাহামিনা খাতুন, জেমি খাতুন, লাবনী পারভিন, সুরাইয়া পারভিন জানায়, তাদের মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষের দখল নিয়ে চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ বাহিরে ফেলে দিয়েছেন। নিরুপায় হয়ে তারা বারান্দায় বসে পাঠদান গ্রহন করছে।

জন্তিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মতিন জানান, জন্তিপুর একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। গ্রামটিতে প্রায় তিন হাজার লোকের বসবাস। সেখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষা লাভের কোন সুযোগ নেই। সারা বছর শ’ শ’ শিক্ষার্থী ঐ মাদ্রাসাতেই পড়ালেখা করে থাকে।

অভিযুক্ত মোজাম হোসেন, তোজাম আলী, চাঁদ আলী ও রেজাউল করিম জানিয়েছেন, মূলত জন্তিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা জন্তিপৃুর গ্রামেই অন্যত্র পরিত্যক্ত পড়ে আছে। এই মাদ্রাসার জায়গা তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। তাই দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির জানান, কওমি মাদ্রাসা সাধারণত স্ব স্ব এলাকা বা গ্রামের লোকজন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

তাড়াশ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বলেন, সকলকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে জন্তিপুর দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসার সম্পত্তির দলিলাদি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here