তাড়াশে পৌর শহরের রাস্তা, এখন গ্যারেজ!

0
286

তাড়াশ থেকে গোলাম মোস্তফা

তাড়াশে পৌর শহরের কোথাও সিএনজি ও বাসস্ট্যান্ড না থাকায় যাত্রী উঠা-নামার জন্য ব্যস্ততম রাস্তার ওপরই গাড়িগুলো রাখা হচ্ছে। আর অটোভ্যান ও ইজিবাইক গ্যারেজ করা হচ্ছে যত্রতত্র। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শহরজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আবার মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর ভবনের দেয়াল ঘেঁষে ও শহরে যাতায়াতের প্রধান রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে বাস। মাঝখানে ঝুঁকিপূর্ণ তাড়াশ উপজেলা মডেল প্রেসক্লাব মোড়। পাশেই উপজেলা মৎস্য রিসোর্স সেন্টারের দেয়াল ঘেঁষে লম্বা সাড়িতে রাখা হয়েছে সিএনজি। ছোটবড় গাড়িগুলো রাস্তার ওপর রাখায় অর্ধেক রাস্তা জমা গাড়ির দখলে রয়ে গেছে। আবার সেখানেই রাস্তার দু’পাশে চা ষ্টল, ঔষধের দোকান ও মুদি দোকান। এখানে চা পান ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য লোকজন সকাল থেকে রাত অবদি রাস্তার এপাশ-ওপাশ যাতায়াত করে থাকেন। সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাপক হারে।

এদিকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, বাসষ্ট্যান্ড এলাকা, খাদ্য গুদাম মোড় ও বারোয়ারি বটতলা মোড়ে বিশৃঙ্খলভাবে গ্যারেজ করতে দেখা গেছে অটোভ্যান। সঙ্গে ইজি বাইকও রয়েগেছে।

শহরের ব্যস্ততম রাস্তা ও জনসমাগম এলাকায় বাস, সিএনজি, অটোভ্যান, ইজিবাইক রাখার ফলে দিনের প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকছে।

ভুক্তভোগী ও পৌর শহরের  লন্ড্রী দোকানদার শ্যামল কুমার রজত, মুদি দোকানদার বিদ্যুত কুমার ঘোষ, মজনু পারভেজ, মোবাইল বিক্রেতা শিহাব উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, নিত্য প্রয়োজনে কাছে ও দূরের হাজার-হাজার মানুষ প্রতিদিন তাড়াশ সদরে প্রবেশ করেন। শহরে বাসষ্ট্যান্ড, সিএনজি ও অটোভ্যানের গ্যরেজ না থাকায় সব ধরনের যানবাহন ইচ্ছেমতো স্থানে রেখে যাত্রী ওঠা নামানো করা হয়।

আরেকজন ভুক্তভোগী তাড়াশ উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, জেলা শহর সিরাজগঞ্জ ও বানিজ্যিক শহর বগুড়ার সঙ্গে অভ্যন্তরিন সংযোগ থাকায় তাড়াশ উপজেলা মডেল প্রেসক্লাব মোড় হয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বিভিন্ন যান্ত্রিক যানবাহন করে শহরে যাতায়াত করে থাকেন। অথচ সেই মোড়ের দু’পাশেই রাস্তার অর্ধেক জায়গা দখল করে বাস ও সিএনজি রাখা হয়। ফলে আকষ্মিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী।

আর পথচারীরা জানিয়েছেন, শহরের প্রধান সড়ক ও মোড়ে-মোড়ে হালকা ও ভারি যান্ত্রিকযানবাহন রাখার ফলে যানজটের কবলে আশ-পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

বাসচলক খোকন সরকার, ছাইদুল ইসলাম, সিএনজিচালক গোলাম রাব্বানী, আলহাজ উদ্দিন, ছাইফুল ফকির, অটোভ্যান চালক আইয়ূব আলী, আব্দুস সালাম, আব্দুর রাজ্জাক, ইজিবাইক চালক আল মামুন, মোতালেব হোসেন প্রমূখ বলেন, পৌর শহরে নির্দিষ্ট বাসষ্ট্যান্ড ও সিএনজি গ্যারেজ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর ও যত্রতত্র গাড়ি রেখে দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, বাসষ্ট্যান্ড ও সিএনজি গ্যারেজ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here