নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ায় প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে নেমে ত্রাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষরা।
শনিবার (১১এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ডের মাটিডালী বারপুর উত্তরপাড়ার মোজামনগর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশের একটি গলিতে কয়েকশ নারী-পুরুষ প্ল্যাকার্ড হাতে ত্রাণের দাবিতে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধন মাটিডালী বারপুর উত্তরপাড়ার মোজামনগর এলাকার রিক্সাচালক, লেবার, দিন মজুর, হোটেল শ্রমিক, মোটর মেকানিক লেবার, কৃষকরা অংশ নেয়। তাদের প্লাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমরা খেটে খাওয়া শ্রমিক, আমরা অর্ধা-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি, আমরা খাবার চাই, ত্রাণ চাই’।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া দিনমজুর, শফিক, রায়হান, রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই শ্রমিক। কেউ রিকশা চালাই, কেউ মোটর শ্রমিক কেউবা বিভিন্ন পরিবহনে লেবারের কাজ করি। গত কয়েকদিনে আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। ঘরে বসে থেকে আমরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের আর কোন উপায় না থাকায় আমরা আজ রাস্তায় দাড়িয়েছি। আমাদের স্থানীয় কাউন্সিলর আমাদের খোঁজ নিতেও আসেনি।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া হোটেল শ্রমিক ফাতেমা, রমিসা, খায়রুন বলেন, হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছি। দিন হাজিরায় কাজ করতাম। সেই টাকায় সংসার চলে। এখন কাজ নাই। ঘরে খাবারও নেই। এখনও ত্রাণ পাইনি। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় নেমেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদ বলেন, তার ওয়ার্ডে সাড়ে ১৫ হাজার ভোটার। কিন্তু ২১ জনের একটি বরাদ্ধ পাওয়া গিয়েছিল। প্রতিজনের জন্য ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু। ওই খাবার ২১ জনকে দিতে গেলে লোকজনের মার খেতে হবে। তাই নেইনি। সরকারি আর কোন বরাদ্ধ এখনও পাইনি। পৌরসভার চেয়ারম্যানকে আমরা কাউন্সিলররা পৌরসভার ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে ত্রাণ কেনার কথা বললেও তিনি বিষয়টি কর্ণপাত করেননি। আমরা এলাকার লোকদের সহযোগিতা করতে চাই।

পৌর মেয়র একেএম মাহবুবর রহমান বলেন, ১৭নং ওয়ার্ডের বরাদ্ধ ২১ প্যাকেট এখনও কাউন্সিলরা নিয়ে যায়নি। যেহেতু অফিস বন্ধ মিটিং করা সম্ভব নয়। তাই কাউন্সিলর মেজবাউল হামিদকে আবেদন করতে বলেছিলাম। কিন্তু তিনি তা করেননি। নিম্ম আয়ের লোকজনদের ত্রাণের বিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার সাধ্যমত সহযোগিতার করার চেষ্টা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here