দেশীয় প্রযুক্তিতে অক্সিজেন যন্ত্র আবিষ্কার করে বিপ্লব ঘটিয়েছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী ‘বিপ্লব’

0
325
সুমন সরদার  

হামরা বোগরার ছোল, পুটি মাছ ম্যারব্যার য্যয়া ম্যারা আনি বোল। এজন্যই এই গানটি বগুড়া জেলায় বেশ জনপ্রিয়।বগুড়া শুধু দই আর মরিচের জন্যই বিখ্যাত নয়, কিছু ক্ষণজন্মা পুরুষ এর জন্য বগুড়া জেলা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের দরবারে পরিচিত। তেমনি একজন বগুড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানী যার আবিস্কৃত যন্ত্র নিয়ে চলছে নানা মহলে সোরগোল।

একের পর এক গবেষণা করে বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার করে বগুড়াকে শুধু সম্মানিতই করেনি বরং দেশ ও দশের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন নিজেকে। ক্ষুদে এই বিজ্ঞানী বগুড়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুন নবী বিপ্লব। ইতিমধ্যে তিনি তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন।

শহরের শেরপুর রোডস্থ সূত্রাপুর সংলগ্ন অবস্থিত কাঁকন রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং ওয়ার্কশপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘ সময় অত্যান্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

সম্প্রতি তিনি অক্সিজেন কন্সেন্ট্রেটর মেশিন আবিষ্কার করে মহামারী করোনায় সংক্রমিত রোগীদের জন্য এক মহা সুখবর দিয়েছেন। আমাদের দেশে অক্সিজেন সাপ্লাই প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অনেক রোগীর অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে অকারণে প্রাণ দিতে হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুন নবী বিপ্লব স্বল্প খরচে সম্পূর্ণ অটোমেটিক অক্সিজেন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন, যা হাসপাতাল/ ক্লিনিকে এক সাথে বেশ কিছু রোগীকে অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে পারবে। প্রতি মিনিটে ১০ লিটার করে অটোমেটিক এই যন্ত্রটি নিজেই অক্সিজেন উৎপাদন করতে সক্ষম। এছাড়াও অনলাইনে এই যন্ত্রটির নিয়ন্ত্রণ করাসহ, অক্সিজেন সরবারাহের পাশাপাশি রোগীর গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ে এই যন্ত্র আবিষ্কার করায় তাঁকে ক্ষুদে বিজ্ঞানীর স্বীকৃতি দিয়ে দেশের অন্যান্য উদ্যোক্তার সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিপ্লব ১৯৯৬ সাল থেকে নানা ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারে মনোনিবেশ করেন। ডিসি ভেন্টিলেশন তৈরি করে ২০০৭ সালে সেসময় আলোচিত হন। তাঁর এই যন্ত্র গ্রামীণ ফোন ও সিটিসেল কোম্পানিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। বন্যার আগাম সতর্কসংকেত জানানোর যন্ত্র আবিষ্কার করে সুনাম কুড়িয়েছেন সরকারি ভাবে ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালে পুকুরে অক্সিজেন সাপ্লাই এর জন্য তৈরি করেন ওয়াটার এরিয়েটর মেশিন। অটোমেটিক বেবী ইউরিন এলার্ম বেড তৈরি করে ২০১৭ সালে রীতিমত হৈচৈ পড়ে যায়। তাঁর এই আবিষ্কার নিয়ে হয় নানান আলোচনা। তিনি কখনো থেমে থাকেন নি। মাহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে জনগনকে বাঁচাতে নিরলস প্রচেষ্টা করে ২০২০ সালে তৈরি করেন অটোমেটিক স্যানেটাইজার গেট। শুধু কি তাই প্যারালাইজড রোগীদের জন্য তিনি হ্যান্ড এক্সসেসাইজ মেশিন আবিষ্কার করেছেন। আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বগুড়ার গাবতলি পদ্মপাড়ায় ১৯৭৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই বিপ্লবী বিজ্ঞানী। বাবা কলিম উদ্দীন সাবেক হেলথ ইন্সপেক্টর। তাঁর বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার নিয়ে দৃষ্টি ২৪ ডটকম এর এই প্রতিবেদককে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশ ও দশের কল্যানে আরও কিছু করতে চাই। সরকার যদি ক্ষুদ্র এই প্রচেষ্টার সঠিক মূল্যায়ন করে বড় পরিসরে করার জন্য সহায়তা সহযোগিতা করে, সেই সাথে কম লাভে লোন দিয়ে কিংবা বিনা লাভে লোন দেয় তাহলে আমাদের মত ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা আরও এগিয়ে যাবে। সেই সাথে কাজের স্বীকৃতি দিলে আমরা আরও উৎসাহী হয়ে কাজ করতে পারব। তাঁর ওয়ার্কশপে গিয়ে দেখা গেল আরও বেশ কিছু প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানী বিপ্লব। সেখানে উপস্থিত ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিঃ এর বগুড়া ব্রাঞ্চের এফ.এ.ভিপি মশিউর রহমান এসেছেন তাঁর এই অক্সিজেন যন্ত্র দেখতে। তিনিও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিজ্ঞানী বিপ্লব দীর্ঘদিন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর সাবেক ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here