ধুনটে এমপি-পূত্র গ্রুপ বনাম আ’লীগ সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৩

0
293

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগের ২ গ্রুপের পাল্টা-পাল্টি ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করেছে। এঘটনায় পুলিশ সহ ২৩ জন আহত হয়েছে।

দলীয় সুত্রে গেছে, গত ৩০ জানুয়ারী ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক টিআই এম নুরুন্নবী তারিক নৌকা নিয়ে পরাজিত হন। দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হওয়ার পিছনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সদস্য হাবিবর রহমান, তার ছেলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আসিফ ইকবাল সনি সহ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক মহসিন আলমকে বিদ্রোহী প্রার্থী এ জি এম বাদশাহকে মদদ দাতা হিসাবে দায়ী করা হয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি দলের এক সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইচ চেয়ারম্যান মহসিন আলমকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপাতি টিআই এম নুরুন্নবী তারিক, সাধারন সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের সাথে হাবিবর রহমান এমপির বিরোধ শুরু হয়।

ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দৌলা রিপনকে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এমপি পুত্র আসিব ইকবাল সনির লোকজন মারধর করেন।

এখবর ছড়িয়ে পড়লে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পক্ষের যুবলীগের সভাপতি এস এম মতিউর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার ও সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ স্বপনের নেতৃত্বে নেতা কর্মীরা লাঠিসোডা নিয়ে এমপি পুত্র সহ তাদের পক্ষের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে।

উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এক পর্যায়ে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সুজাউদ্দৌলা রিপন, ছাত্রলীগ সভাপতি জাকারিয়া খন্দকার, ছাত্রলীগ নেতা সজেদুর রহমান সাগর, রুবেল বাবু, আরিফ রহমান, নাসিম, আকাশ, বলাই মন্ডল, হৃদয় হাসান ১৬ নেতা কর্মী আহত হয়।

অপর পক্ষে এমপি পুত্রের পক্ষের যুবলীগের সুজন, সাত্তার ও মিঠু আহত হয়। পরে তারা বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ৪ রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু সালেহ স্বপন জানান, এমপি পুত্র পুলিশ নিয়ে আমাদের শান্তিপুর্ন মিছিলের উপর হামলা করে ত্যাগী নেতা কর্মীদের আহত করেছে।

সদ্য বহিস্কৃত উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইচ চেয়ারম্যান মহসিন আলম বলেন, সংঘর্ষের বিষয়টি আমি জানি না। তবে আমাকে বহিস্কার করার বিষয়টি গঠনতন্ত্র পরিপন্থি।

এমপি পুত্র আসিফ ইকবাল সনি জানান, একটি অনুষ্ঠানের জন্য আমি ইউএনও অফিসে ছিলাম। পরে শুনতে পাই বাহিরে গন্ডগল হচ্ছে। এখানে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ভিত্তীহীন। পৌর নির্বাচনে আমরা শতশত নেতাকর্মী মিলে নৌকার পক্ষে ভোট করেছি।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধ বালা ৪ রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করার কথা স্বীকার করে বলেন, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে এস আই প্রদিপ কুমার, এসআই মজিবর রহমান সহ দুই কনষ্টেবল আহত হয়েছেন। অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here