ধুনটে ওসি ম্যানেজ, সরকারী জলমহল থেকে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার মাছ চুরি

0
1021
গিয়াস উদ্দিন টিক্কা, বিশেষ প্রতিবেদক:

বগুড়ার ধুনটে আদালতের আদেশ অমান্য করে পুলিশের সহযোগীতায় টেংরাখালি সরকারী জলমহল থেকে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করছে একটি মহল।

প্রতিবাদ করায় হুমকির মখে পড়েছে টেংরাখালি গ্রামের শতাধিক জেলে পরিবার ।

টেংরাখালি মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির সভাপতি নিমাই চন্দ্র হাওলদার অভিযোগে করে বলেন, ৪২ একর আয়তনের টেংরাখালি জলমহলটি অবৈধ ভাবে নিতিমালা বহিরর্ভুত ভাবে ১৪২৪-২৯ বঙ্গাব্দ মেয়াদে জলমহল থেকে ৬/৭ কিলোমিটার দুরের পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া ধীবর মৎস্যজিবি সমবায় সমিতিকে লীজ দেওয়া হয়। এরপর পেঁচিবাড়ি মলোপাড়া মৎস্যজিবি সমিতি ওই জলমহলটি আব্দুর রউফ খান নামের এক ব্যাক্তিকে অবৈধ ভাবে সাবলীজ দেয়। আমি ওই জলমহল সাব লীজ দেওয়ার প্রতিবাদে হাই কোটে ৭৬৪৩/২০১৭ নং মামলা দায়ের করি। আদালত ২০১৯ সালে সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমানিত হলে লীজ বাতিল করে প্রকাশ্যে টেন্ডার দেওয়ার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক গত বছর ২৩ জুন সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমান পেয়ে একই বছর ১১ জুলাই জেলা জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় টেংরাখালি জলমহলের লীজ বাতিল সহ জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করেন। এরপর পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক সহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়া সহকারী জজ আদালতে ২৮০/১৯ অন্য একটি মামলা করলে আদালত অস্থায়ী নিধোজ্ঞা দেন। ওই সমিতির পক্ষে অধিকতর তদন্তের জন্য ভুমি মন্ত্রনালয়ে একটি আবেদন করেন।

ভুমি মন্ত্রনালয় অধিকতর তদন্তের জন্য রাজশাহি বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দেন।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হুমায়ন কবির খোন্দকারকে সরেজমিনে তদন্ত করে টেংরাখালি জলমহলটি সাবলীজ দেওয়ার সত্যতা প্রমান পেয়ে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারী ভুমিমন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দেন। নিমাই হওয়ালদার আরো জানান, ২৮০/১৯ নং মামলার আমি মামলার ৭ নং বিবাদী হিসাবে হাইকোটে আপীল দায়ের করি। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী হাইকোট ওই মামলাটির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের ধুনট থানার তৎকালীন ওসি ইসমাইল হোসেন জলমহল থেকে মাছ মারা বন্ধ করেন। এরপরেও আব্দুর রউফ খানের বাহিনী চুরি করে মাছ ধরে।

এতে গত ৫জুলাই বগুড়া জেলা প্রশাসক টেংরাখালি জলমহল থেকে অবৈধ ভাবে মাছ চুরির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মোহন্তকে লিখিত নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার সরেজমিনে তদন্ত করে মাছ চুরির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ১৯ জুলাই ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে নির্দেশ দেন।

গত রবিরার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মাছ চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দুরের কথা উল্টো আব্দুর রউফ খানের সাথে গোপন আতায়াতের মাধ্যমে মাছ চুরির সুযোগ করে দেন । আব্দুর রউফ খানের লোকজন সোমবার সকাল থেকে সরকারী জলমহল থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরা অব্যহত রেখেছে এবং টেংরাখালি গ্রামের জেলে পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করছে।

বিষয়টি থানা ওসিকে জানিয়ে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে জেলা প্রশাসকের আদেশ আমান্য কারে সরকারী জল মহল থেকে পুলিশের সহযোগীতায় লাখ লাখ টাকার মাছ চুরি করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি সাধন করছে।

এ বিষয়ে ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালার কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো ইউএনওকে দোষারোপ করেন।

ইউএনও সঞ্জয় কুমার মোহন্ত জানান, আমি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। ওসি ব্যবস্থা নিবে কিনা তার ব্যক্তিগত বিষয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here