ধুনটে বাঙালির ভয়াবহ ভাঙ্গন, আতঙ্কিত ২৬ গ্রামের মানুষ

0
289

গিয়াস উদ্দিন টিক্কা, বিশেষ প্রতিবেদক:

বগুড়ার ধুনট বাঙালি নদীর তীব্র ভাঙনে নদী পাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। অব্যহত নদী ভাঙ্গনে ফলে বগুড়া জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে উপজেলার ২৬টি গ্রাম। ইতিমধ্যে ওইসব গ্রামের বসতবাড়ি, আবাদি জমিসহ বেশকিছু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর-পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙ্গালী নদীর উত্তরে সাতবেকি গ্রাম থেকে দক্ষিনে পেঁচিবাড়ী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকার নদীর দুই পাড়ের ২৬টি গ্রাম পড়েছে ভাঙ্গনের মুখে। ভাঙ্গন কবলীত গ্রাম গুলো হলো সাতবেকি, পিরাপাট, ধামাচামা, জয়শিং, নান্দিয়ারপাড়া, নাংলু, ফরিদপুর, নিমগাছি,বেড়েরবাড়ী, বিলচাপড়ি, হেউডনগর, হাসাপোটল, রামনগর, রাঙ্গামাটি, বিলনোতাল, ডেকরাঘাট, ঝাঝর, শৈলমারী, নলডেঙ্গী, বরইতলী, নবীনগর, বথুয়াবাড়ী, বিলকাজুলী, চকধলী, শাকদহ ও পেচিবাড়ী ।

এলাকাবাসী জানান, ২৬টি গ্রামের মানুষ গত দুই যুগের বেশী সময় ধরে বাঙালি নদীর ভাঙ্গা গড়ার খেলা মধ্যেই জীবন জীবিকা নির্বাহ কওে আসছে। বর্তমানে জয়শিং, নিমগাছি, পেঁচিবাড়ি, রামনগর, ফরিদপুর গ্রাম ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে এসব গ্রামের কমপক্ষে ২০০টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ফরিদপুর গ্রামের নদী ভাঙ্গনের শিকার আনিচ ফর রহমান , মামুনুর রশিদ জানান, বাঙ্গলী নদী বছরের বেশীর ভাগ সময় পানি শুন্য থাকে । প্রতিবছর ভরা বর্ষায় নদী কানায় কানায় ভরে ওঠার পর পাড় ভাঙ্গন শুরু হয়। বর্ষ মৌসুমের জোয়ার ভাটার নীলা খোলায় টানা ২/৩ মাস চলে ভাঙ্গনের নদী ভাঙ্গনে তান্ডব। গত কয়েক বছরে বাঙ্গলীর পেটে গেছে গ্রামের অধিকাং এলাকা ।

ফলে ভিটে মাটি হারিয়ে মানুষ নিস্ব হয়েছেন। জয়শিং গ্রামের ফেরহাদ হোসেন জানান, বাঙ্গালী নদীর ভাঙ্গনে জয়শিং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি পাকা মসজিদ সহ পুরো গ্রাম পড়েছে ঝুঁকির মুখে। ভাঙ্গন রোধকরা না গেলে পুরো গ্রামই নদীগর্ভে বিলিন হবে। নদী ভাঙনে ফলে বগুড়া জেলার মানচিত্র থেকে মুছে যেতে চলেছে ধুনট উপজেলার ২৬ গ্রামের নাম।

নিমগাছি ইউনিয়েন চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, বাঙ্গালী নদীর ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে তার ইউনিয়েন প্রায় ১০টি গ্রাম। ভাঙ্গন কবলীত এসব এলাকা রক্ষার জন্য একাধিক বার বগুড়া পাউবো কাছে ধর্না দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি।

বথুয়াবাড়ি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বেদার উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাঙালি নদীর পানি কমতে থাকায় প্রবল স্রোত ঘুর্ণাবতের সৃষ্টি হয়ে রাক্ষুসী রুপ ধারন করেছে। বাঙ্গালী নদী প্রতিদিন গ্রাস করে চলেছে নতুন নতুন এলাকা। নদীতে বিলীন হচ্ছে গ্রাম, জনপদ, আবাদী জমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ, বদলে যাচ্ছে এ সব এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার ধরন।

এবিষয়ে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, গাইবান্ধা থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত বাঙ্গালী নদীর নব্যতা ফিরিয়ে আনতে ড্রেইজিং ও ভাঙ্গন রোধে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলার ৯৯ কিলোমিটার বাঙ্গলী নদীর ড্রেইজিং ও ভাঙনরোধে কাজ করার জন্য টেন্ডারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here