ধুনটে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে এখন চাষীরা

0
375

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধৃুনট (বগুড়া):

বগুড়ার ধুনটে কৃষি পুনবাসন বাস্তবায়ন কমিটির বিরুদ্ধে সরকারী কৃষি ভুর্তকির ধান কাটা মেশিন ক্রয় ও বিতরনে সিমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

সরকারী অর্থ লুটপাট করতে কাগজ পত্র তৈরী করে পুরাতন মেশিন নতুন করে বিতরন করার বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় সরকারী এ প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে মাঠের পাকা ধান ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে চাষী।

জানা গেছে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উন্নয়ন সহায়তার জন্য কৃষি ভুর্তকির মাধ্যমে ধান কাটা মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার ) ও ধান রোপন (রাইস ট্রান্সপ্লান্টার) কেনার জন্য প্রতিটি মেশিনের অনুকুলে সরকারী ভুর্তকির ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২৮ লাখ টাকা মুল্যের এসব মেশিন ভুর্তকির মাধ্যমে পাওয়ার জন্য ১০ টি ইউনিয়নের ২১ জন কৃষক আবেদন করেন।

আবেদন গুলি যাচাই বাছাই করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, খামারবাড়ি প্রেরন করা হয়।

একমাস পর গত ২৫ মার্চ অতিরিক্ত পরিচালক স্বাক্ষরিত এক পত্রে ৪টি ধান কাটা মেশিন (কম্বাইন হারভেস্টার ) ও ১টি ধান রোপন (রাইস ট্রান্সপ্লান্টার) কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কৃষক নির্বাচন ও মেশিন ক্রয় ও সময় মতো বিতরন করার জন্য উপজেলা কৃষি পুনবাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে গত ১৬ এপ্রিল উপজেলা পরিষদ সভার কক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় আবেদন কারী কৃষকদের মধ্যে থেকে নাটাবাড়ি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে ফোরহাদ রেজা , চিকাশী গ্রামের মুন্ট আকন্দের ছেলে ছানোয়ার হোসেন , পাঁচথুপি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ও কাশিয়াহাটা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে আবু সামা আকন্দকে (কম্বাইন হারভেস্টার) ধান কাটা মেশিন দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

২১ এপ্রিল এসি আই মোটরর্স লিঃ ডেলিভারী চালানে উপজেলা কৃষি পুনবাসন কমিটির সভাপতি (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা ও কৃষি অফিসার মশিদুল হক যৌথ স্বাক্ষর করে ফোরহাদ রেজা , ছানোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম নামে তিনটি মেশিন কাগজ কলমে বিতরন দেখিয়ে প্রায় ৪২ লাখ টাকা আতœসাত করার চেষ্টা করেন।

কিন্ত প্রকৃত পক্ষ এই তিন ব্যক্তি গত ২০১৯ সালে এসি আই মোটস লিঃ থেকে ধান কাটা মেশিন কিন্তিতে ক্রয় করে বিভিন্ন এলাকায় ধান ও গম কাটার কাজ করে। ধান কাটা মেশিন থাকার পরেও তাদের নামে সরকারী ভুর্তকির ধানকাট মেশিন বিতরনের বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে ৫জন ভুক্তভোগী কৃষক উপজেলা কৃষি পুনবাসন কমিটির সভাপতি রাজিয়া সুলতানা কাছে একটি অভিযোগ দেয়। এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টিআই এম নুরুন্নবী তারিক ধানকাটা মেশিন ক্রয় ও বিতরনে অনিয়মের বিষয়টি প্রতিবাদ করায় ইউএনও রাজিয়া সুলতানা ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেছেন।

এবিষয়ে কৃষি পুনবাসন কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের একে অপরের বিরুদ্ধে পরস্পর বিরোধী পাওয়া গেছে।

কৃষি পুনবাসন কমিটির সভাপতি ও (ইউএনও ) রাজিয়া সুলাতানা বলেন, কৃষি অফিসার মশিদুল হক সরকারী অর্থ লুটপাট করতে মেশিন আছে এমন কৃষকদের নামে কাগজ প্রত্র তৈরী করে প্রতারনার মাধ্যমে তার স্বাক্ষর নিয়ে মেশিন বিতরন দেখিয়েছেন।

কৃষি পুনবাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কৃষি কর্মকর্তা মুহাঃ মশিদুল হক বলেন, উপজেলা কৃষি পুনবাসন কমিটির সিধান্তের বাইরে কোন কাজ করা হয়নি। প্রতারনার মাধ্যমে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রশ্নই আসে না । কারন তিনি সভার রেজুলেশন, মেশিন ্ক্রয়ের কোম্পনীর ডেলিভারী চালনেও স্বাক্ষর করেছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে আমার উপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। কমিটির সভাপতিরও বহন করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের একজন উপ পরিচালক এর কাছে অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, অনিয়ম হয়ে থাকলে কৃষি পুনবাসন কমিটির সভাপতি তার দায় এড়াতে পারবেন না। তিনি কমিটির সভাপতি হয়ে তদন্তও করতে পারবে না ।

অনিয়মের কারনে ধুনট উপজেলায় সরকারী ভুর্তকির ধান কাটা মেশিন কবে নাগাত বিতরন করা হবে এ বিষয়টি কোন কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here