ধুনটে হেলাল চেয়ারম্যানের বে-পরোয়া বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে ৫টি গ্রাম সহ কোটি কোটি টাকার স্থাপনা

0
1174

গিয়াস উদ্দিন টিক্কা, ধুনট (বগুড়া):

বগুড়ার ধুনটে  এম এ তারেক হেলাল চেয়ারম্যান বেপোরায়া হয়ে উঠেছেন। ক্ষমতার দাপটে বাঙ্গালী নদীর বিলচাপড়ি ঘাট থেকে নবীনগর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার নদী দখল করেছেন। তিনি ওই নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু , পাকা সড়ক, নদীর তীরবর্তী গুচ্ছগ্রাম সহ ৪/৫ গ্রাম সহ কয়েক শ’একর আবাদী জমি হুমকির মুখে পড়েছে ।

জানা গেছে ,২০১০ সালের বালু উত্তোলনের নীতিমালায় যন্ত্র চালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তল দেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই আইনে সেতু কালভার্ট, পাকা সড়ক, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ, রেললাইন সহ সরকারী মুল্যবান স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করা বে আইনি ঘোষনা করা হয়েছে।

সরকারী ওই আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলী প্রদর্শন করে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল নিজেই রিতিমতো বালদস্যুু বনে গেছেন। তিনি বাঙ্গালী নদীর বিলচাপড়ি ঘাট থেকে নবীনগর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলো মিটার এলাকা ক্ষমতার দাপটে দখল করে বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করছেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে চেয়ারম্যান হেলাল ও তার বড় ভাই দুলাল ফকিরের নিয়ন্ত্রনে রবিউল ইসলাম উৎসব , আবু শাহেদ ও জান্নাত মেম্বারও অবৈধ বালু উত্তোলনে সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন। বিলচাপড়ি সেতুর পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দির্ঘদিন থেকে বালু উত্তোলন করছেন রবিউল ইসলাম উৎসব।

অবাদে বালু উত্তোলনের কারনে কান্তনগর নয় মাইল সড়কের বিলচাপড়ি নদীর উপর নির্মিত প্রায় ১৫ কোটি টাকার সেতুসহ আরো ২টি সহ ৩টি সেতু পড়েছে হুমকির মুখে। একই নদীর রাঙ্গামাটি গুচ্ছ গ্রামের সামনে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন চেয়ারম্যান হেলালের বড় ভাই দুলাল ফকির।

আড়িয়ামারা এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছেন জান্নাত নামের এক সাবেক মেম্বার। ওইসব বালুর পয়েন্ট নিয়ন্ত্রন করার পাশাপাশী ঝাঝর ও শৈলমারী এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল নিজেই।

নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে তল দেশ থেকে বালু উত্তোলন ফলে ‘দক্ষিন রাঙ্গামাটি থেকে উত্তর রাঙ্গামাটি পর্যন্ত এক বছর আগে নির্মান করা দেড় কোটি টাকার সরকারী পাকা সড়ক ভেঙ্গে চুরে নষ্ট হলেও দেখার কেউ নেই।

গোলাম রব্বানী নামের এক ব্যক্তি জানান, বালু উত্তোলনের ফলে তার আবাদি জমি পড়েছে হুমকির মুখে । প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নদীর তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন কৃষক জানান বর্তমানে নদীতে পানি কম এখন নদী ভাঙ্গনের তেমন প্রভাব নেই । বর্ষা কলে নদী ভরে ওঠার সাথে সাথে পাড় ভাঙ্গনের তীব্রতা শুরু হবে। অব্যহত বালু উত্তোলনের ফলে রাঙ্গামাটি গুচ্ছগ্রাম সহ ৪/৫ গ্রামের কয়েক শ’একর আবাদী জমি হুমকির মুখে পড়েছে ।

ক্ষতি গ্রস্থরা আক্ষেপ করে বলেন, রক্ষক যেখানে ভক্ষকের ভুমিকায় সেখানে বিচার করবে কে ? এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুদ রানা বলেন, তার ইউপি এলাকায় বিলচাপড়ি , রাঙ্গামাটি ও ঝাজর এলাকায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ফলে কোটি কেটি টাকার ব্রীজ ও পাকা সড়ক নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

এলাঙ্গী ইউনিয়নের যুবলীগে সভাপতি সুমন সরকার সাধারন সম্পাদক মিঠু মিয়া জানান, হেলাল চেয়ারম্যান প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারী ব্রীজ, কালভাট, রাস্তাঘাট সহ কোটি কোটি টাকার সরকারী বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট করলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

এলাঙ্গী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারী কয়েকটি রাস্তা পাকা করনের কাজে বালু সরবরাহ করে সহযোগীতা করা হচ্ছে।

এলজি ইডির ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, হেলাল চেয়ারম্যান বালু উত্তোলন করে রাঙ্গামাটি রাস্তাটির যে ক্ষতি করেছে তা মেরামত করে দেওয়ার অঙ্গিকার করেছে। এছাড়া ওই চেয়ারম্যান বালু উত্তোলনের ফলে ৩ টি সেতু ও পাকা সড়ক সহ হুমকির মুখে পাড়া কোটি কোটি টাকার সরকারী স্থাপনা রক্ষার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল নদী দখল করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেনেছি। খুব শীগগীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here