নারী-শিশু হেল্প ডেস্কের দ্রুত আইনি সেবা দিচ্ছেন বগুড়ার পুলিশ

0
141

সুমন সরদার:

সমাজে নানা জটিলতার সমুক্ষিণ হতে হয় নারী আর শিশুদের। কেউ যৌন হয়রানির শিকার, কেউ ধর্ষনের শিকার, কেউবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার। শুধু কি তাই, পুরুষ শাসিত এ সমাজে নারীরা সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও দায়দায়িত্ব পালন করলেও এখনো কমেনি নারী ও শিশুদের ওপর পাশবিক কিংবা অমানবিক নির্যাতন। প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় বা সংসারে পারিবারিক কলহ, পরকিয়া, মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেই হচ্ছে ওসব নারী- শিশুদের। আর এসব ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে আইনি সেবা দিতে নারী-শিশু হেল্প ডেস্ক দ্রুত কাজ করছে।

আইনি সেবা সহায়তা দিতে পুলিশ ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া, ও সমস্যা সমাধানের জন্য কাউন্সিলিং করছে। এমনকি আদালত পর্যন্ত সহযোগিতা করে যাচ্ছে পুলিশ। বগুড়া সদর থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে এরকম সেবা পাওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী পুলিশকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ ছাত্রী দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, অযাচিত এক ঘটনায় তার জিবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, অনেক উপায় অবলম্বন করেও কোন কিনারা করতে না পেরে জিবনের হাল ছেড়ে দিচ্ছিলাম প্রায়। পরে নারী ও শিশু ডেস্কে এসে সব খুলে বললাম, বিষয়টি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের মাধ্যমে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুইঁয়া বিপিএম আমলে নিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে আমার দুর্বিষহ জিবনের কালো অধ্যায়ের অবসান হলো। এখন আমি আশংকামুক্ত ভাল আছি।

বগুড়ায় সদর থানার হেল্প ডেস্কে গত ৮ মাসে এপর্যন্ত নারী ও শিশু সংক্রান্ত ৬৯৪টি অভিযোগ ও জিডি দায়ের হয়। এরমধ্যে ৫৭৩টি অভিযোগ মিমাংসা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে এফ আই আর ৩১ টি, যৌন হয়রানি ৫২টি, যৌতুক ৭৫, বাল্যবিবাহ ৩, ধর্ষণের চেষ্টা ও ধর্ষণ ঘটনা ১৬, পালিয়ে যাওয়া শিশু ২০, শারীরিক নির্যাতনের শিকার ১০২, মানসিক নির্যাতনের শিকার ১৫৮, পারিবারিক কলহ ১৫৯, অপহরণ ৬, পরকীয়া/ প্রেম ঘটিত ৩৬, সাইবার ক্রাইম ৭৩, উদ্ধার ৬৭, আইনী সহায়তা ১৯, মেডিকেল ১৬ এবং অন্যান্য ২, তবে বগুড়ায় পরকীয়ার ঘটনা বেশি ঘটছে।

ডেস্ক ইনচার্জ এস.আই রোজীনা খাতুন দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, ভুক্তভোগী নারী ও শিশু সংক্রান্ত যেকোন বিষয় গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। যত রকমের আইনি সহায়তা রয়েছে আমরা চেষ্টা করি সেসব সেবা নিশ্চিত করার জন্য।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, সমাজের চলমান নানা ঘটনা নিয়ে পুলিশকে কাজ করতে হয়। কিছু কিছু বিষয় এতটাই সেনসেটিভ যে অনেক গোপনীয়তার মধ্যে দিয়ে আইনি প্রকৃিয়া চালিয়ে যেতে হয়। পুলিশ এখন আধুনিকতার পাশাপাশি অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে অনেক বড় বড় অপরাধ উদঘাটন করছে। অপরাধ করে কেউ পারবেনা, সেই সুযোগ নেই। আমাদের সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুইঁয়া মহোদয় অত্যন্ত বিচক্ষণ ও দক্ষ কর্মকর্তা, তিনি আমাদেরকে সার্বক্ষণিক বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন যাতে করে বগুড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে সেজন্য আমরা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here