নৌকা প্রতীক কেড়ে নিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর ষড়যন্ত্র!

0
185

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে সম্মানহানী করার উদ্যেশ্যে ভিজিডি’র কার্ড কেড়ে নেয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবী করেছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুক। প্রতিপক্ষ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রভাষক আবু সুফিয়ান সুমন এই ষড়যন্ত্র করছেন বলে জানান তিনি।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই কথা বলেন খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এসময় দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল ফারুক তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েকদিন আগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ‘ভোট দেবে না জেনে ভিজিডি কার্ড কেড়ে নিলেন চেয়ারম্যান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্যেশ্যপ্রনোদিত। বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে যথাযথ দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নৌকা প্রতিক নিয়ে জয়লাভ করার পর নিজ দলের হাতে গোনা কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা করে আসছে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি যাতে দলীয় মনোনয়ন না পান এই উদ্যেশ্যে অপর দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সুফিয়ান সুমন আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে সম্মানহানী করা উদ্যেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক গণমাধ্যমকর্মীদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, প্রকাশিত সংবাদে পারুল আকতার (৪৫) নামে যে নারীর কাছ থেকে ভিজিডির চাল ও কার্ড কেড়ে নেয়ার কথা বলা হয়েছে তা সত্য নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো, ওই নারী জনৈক এক ব্যক্তির কাছে তার ভিজিডির কার্ড বিক্রি করে দিয়েছেন। যা নিয়মবহির্ভূত। নিয়ম অনুযায়ী কার্ড কোন অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। তাই জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে পারুল আকতারের ভিজিডি কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এর আগেও ওই নারীকে কার্ড হস্তান্তর করতে নিষেধ করা হয়েছে বহুবার। কিন্তু তিনি তা শোনেননি।

এছাড়া সংবাদে আরো যে তিন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে সেটাও সত্য নয়। পারুল আকতারের স্বামী সাইফুল ইসলামের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি চালের (রেশন কার্ড) কার্ড ছিল। একই পরিবারে দুইজনের নামে কার্ড থাকায় হালনাগাদ যাচাই-বাছাইয়ে সাইফুল ইসলামের কার্ড বাতিল হয়েছে। সংবাদে রুহুল আমিন (৬০) নামে এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। রুহুল আমিনের স্ত্রীর নামেও ভিজিডি’র কার্ড থাকায় হালনাগাদ যাচাই-বাছাইয়ে রুহুল আমিনের নামে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড বাতিল হয়েছে। সংবাদে আরজিনা বেগম (৪০) নামে এক নারীর বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, ‘চালের বস্তাসহ কার্ড কেড়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান’ এটাও সত্য নয়। চাল বিতরনের দিন আরজিনা বেগম ইউনিয়ন পরিষদেই আসেননি। অনেক আগেই তার ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড হালনাগাদ যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। কারণ ওই নারীর পরিবার স্বচ্ছল। তার স্বামীর ৪-৫ বিঘা জমি রয়েছে। মূলত আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি যাতে দলীয় মনোনয়ন না পান এই উদ্যেশ্যেই ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

এবিষয়ে আবু সুফিয়ান সুমন জানান, তিনি ইউপি নির্বাচন করবেন। তাই লোকজন তার কাছে আসতেই পারে। চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুকের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করা হয়নি। এই অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট। উল্টো তিনি যাতে দলীয় মনোনয়ন না পান সে কারণেই এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে সুবিধাভোগী পারুল আকতারের স্বামী সাইফুল ইসলাম জানান, গত সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) তার স্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভিজিডির চাল নিয়ে ফেরার পথে চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুকের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ চালের বস্তা কেড়ে নেয় এবং চেয়ারম্যান নিজে তার স্ত্রীর কাছ থেকে কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন।

অপর সুবিধাভোগী রুহুল আমিন জানান, তার স্ত্রীর নামে ভিজিডি’র কার্ড থাকায় তার নামে থাকা ১০ টাকা কেজি চালের (রেশন কার্ড) কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এতে তার কোন আপত্তি নেই। তিনি কোন প্রতিবাদও করেননি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here