নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুরের শিবচরে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় পৌর এলাকার শিবরায়েরকান্দি গ্রামের দুটি চায়ের দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল শনিবার দুপুরে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। গত শুক্রবার থেকে লকডাউন করে রাখেন জেলা প্রশাসন। আর এটি ছিল দেশে প্রথম ‘লকডাউন’ এলাকা।
এদিকে করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকা শিবচরের চারটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যাতে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের না হন এজন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে। ঝুঁকিতে থাকা শিবচর উপজেলার চারটি এলাকার প্রবেশদ্বারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিবচরজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। করোনার ঝুঁকি এড়াতে শিবচরে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রেখেছে প্রশাসন।
জানা যায়, সম্প্রতি শিবচর উপজেলায় সাড়ে ছয়শ ইতালি প্রবাসীসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জেলায় সাড়ে তিন হাজার প্রবাসী প্রবেশ করেন। এদের মধ্যে মাত্র ২৬৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে। সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন তিনজন। ঢাকার হাসপাতালসহ অন্যত্র আইসোলেশনে রয়েছেন শিবচরের একই পরিবারের আট সদস্য। এমন পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভায় শিবচর পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম লকডাউন (অবরুদ্ধ) ঘোষণা করা হয়। চলাচল সীমিত করা হয়। উপজেলার গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।

এ ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার সকাল থেকেই শিবচর উপজেলা থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সচেতনতা বাড়ায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে হাট-বাজার। শুক্রবার শিবচরে অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, আইইডিসিআর’র স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় সভা করে জনসমাগমে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেন।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে যারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেশি রাখবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here