বগুড়া বিএনপিতে পকেট কমিটি, নেতাদের বহিষ্কারের লম্বা সারি!

0
2102
সুমন সরদার
দলটি ক্ষমতায় নেই ১২ বছর হলো। এর মধ্যে রাজনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মামলা আর জেল খেটে বেশির ভাগই ত্যাগী নেতাকর্মীরা নেতিয়ে পড়েছে। এখনো ঘুম থেকে উঠেই আদালত পাড়ায় দৌড়াতে হয় এমন নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক লম্বা হলেও, দলটির দুর্দিনে আর দুঃসময়ে যারা পাশে ছিল না আজকে তারাই বিএনপিকে পরিচালনা করছে এমন অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
বহিষ্কার আর কমিটির বিলুপ্তির ম্যারাথন দৌড়ে বগুড়া জেলা বিএনপি অনেক জেলার চাইতে একধাপ এগিয়ে। বগুড়াকে বলা হতো বিএনপির দুর্গ। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আর সংস্কারপন্থীদের দাপটে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বগুড়া বিএনপি, এমন অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও বিএনপিকে ভালোবাসে এমন শত শত সমর্থকরা।
বগুড়ার বিএনপির ইতিহাসে ১রাতের মধ্যে কমিটি বিলুপ্ত করে, পরের দিন কমিটি করা হয়, এমন ঘটনাও নজিরবিহীন। কমিটি বিলুপ্ত আর বহিষ্কার রীতি যেন জেলা বিএনপির শীর্ষ কয়েক নেতার নীতিতে পরিণত হয়েছে।
আর এমন রাজনৈতিক টার্গেটে পড়েছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল গত ১০/১০/১৯ সালে বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অনুমোদনক্রমে। বগুড়া জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে হঠাৎ করে বছরের শুরুতেই গঠণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র কমিটি বাতিল করে।
২জানুয়ারী উপজেলা ও পৌর কমিটির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেন জেলা বিএনপি। ঠিক কি কারণে আর গঠনতন্ত্রের কত ধারায় ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে তা বোধগম্য নন বর্তমানে বিলুপ্ত কমিটির ত্যাগী নেতারা। কমিটি বিলুপ্ত করায় ক্ষোভে ফুঁসছে তৃনমুল। সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে নুরুল ইসলাম বাদশা ও যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে সাদেক মোহাম্মদ আজিজ সহ ৫৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট।
এই কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে সাহজাত হোসেন পল্টন জানান, আহবায়ক নুরু বাদশা আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে আবার বিএনপি করে কেমনে। যুগ্মআহবায়ক আজিজ কোনদিন বিএনপি করেনি। ১/১১ থেকে কোন আন্দোলনে তাদেরকে দেখা যায়নি। একেএম আহসানুল হক তৈয়ব জাকির সোনাতলা বিএনপি ও জেলা বিএনপির সদস্য, উনি কেমন করে প্রস্তাবিত কমিটিতে স্বাক্ষর করে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। একরাতের পকেট কমিটি আমরা মানি না মানবো না।
আরেক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রবু জানান, ৮৬ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত সরকার পতন আন্দোলনে মামলা খেয়েছি। দলে আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার আছে। সোনাতলার জাকির স্বাক্ষরিত প্রস্তাবিত আহ্বায়ক পকেট কমিটি অবৈধ।
বিএনপির আরেক নেতা ইলিয়াস উদ্দিন জানান, আদালতে ৯টি মামলার এখনো হাজিরা দিতে হয়। ৯৪ সাল থেকে দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছি। ১/১১ থেকে শুরু করে বিগত আন্দোলনে যাদের কোনদিন দেখেনি তারা এখন কমিটির হর্তাকর্তা। নুরু বাদশা, আজিজ, এড. নুর আঢ়ম বাবু, এড. মোস্তাফিজ একজন বহিষ্কৃত নেতা, এরা কোনদিন বিএনপির রাজনীতি করেনি।
কি ভাবে এরা কমিটিতে স্থান পায়। অবিলম্বে কমিটি বাতিল করা হোক। জেলা বিএনপির নির্দেশে ২৮/১১/২০ থেকে ১৩/১২/২০ পর্যন্ত ১২ টি ইউনিয়নে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন করেছি। হঠাত করে আমাদের কমিটি বাতিল করে এক রাতের মধ্যে পকেট কমিটি করা হলো কেন।
কমিটি বিলুপ্ত নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ জানিয়েছে অনেক নেতাকর্মীরা।
এব্যাপারে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এড.এ.কে.এম সাইফুল ইসলাম, দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তারা বিএনপি সমর্থক। এই কমিটি অস্থায়ী, সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কমিটি করা হবে। অনেকেই পাল্টা পাল্টি অভিযোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এই নেতা স্বীকার করে বলেন, সারিয়াকান্দির কমিটির মত ১ দিনের ব্যবধানে আর কোন কমিটি হয়নি।
অপরদিকে, একের পর এক নেতারা বহিষ্কার হচ্ছে। সর্বশেষ এই তালিকায় যোগ হলো জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মিল্লাত হোসেনের নাম। দলিয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক সোহেল স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে গত সোমবার। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক জানে আলম খোকাকে বহিষ্কার করে দলটি। খোকার পক্ষে নির্বাচনে সহায়তার অপরাধে মিল্লাতকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে বিএনপির মনোনীত পৌর মেয়র প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুন্ডু, মিল্লাতকে তাঁর নির্বাচনের সহায়তার জন্য কখনো ডাকেনি বলে জানান মিল্লাত।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা যুবদলের সভাপতি ও ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিপার আল বখতিয়ারকে বহিষ্কার করে দলটি। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে জেলা বিএনপির নেতারা। বহিষ্কারের দীর্ঘ লাইন আর ত্যাগিদের অবমূল্যায়ন বগুড়া জেলা বিএনপির জন্য অশনিসংকেত বলে সচেতন মহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here