নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ায় পুলিশের উপর পীরের অনুসারিদের ঘটনায় মামলা করছে। মামলায় সাবেক দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ২৪ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রয়াত ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের বাবা সিরাজুল হক ওরফে মোস্তা হুজুর একজন পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শহরের সুলতানগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে তাঁর কবর রয়েছে। তার মুত্যুর পর কবরটি মাজার হিসেবে পরিচিতি পায়। মৃত্যুদিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ২৫ মার্চ রাতে ওরস মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবছরের ন্যায় গত বুধবার (২৫মার্চ) মোস্তা হুজুরের মৃত্যু বার্ষিকি উপলক্ষে বগুড়াসহ আশ-পাশের জেলাগুলো থেকে কয়েক শত ভক্তের সমাগম ঘটে মাজারটিতে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ ধরনের আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান এবং উপ সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওরস বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পীরের অনুসারীরা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটায়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া পুলিশের উপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার রাতেই ১নং ওয়ার্ডের সাবেক দুই কাউন্সিলর নুরুল আমিন ও শফিকুল ইসলাম নয়নসহ ২৪জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘামলা-মারপিটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ)বেলা ১২টার দিকে উপশহর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গফুর বাদি হয়ে ২৪জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ’জনকে আসামী মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, গ্রেফতার আসামীদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here