বগুড়ায় মসজিদ থেকে মোয়াজ্জেমকে অপহরণ- জামাইসহ গ্রেফতার ৩

0
225
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিদিনের ন্যায় এশার নামাজের পর বাড়িতে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে মসজিদে যেত মোয়াজ্জেম। ফজরের আযান আর নামায আদায় করে বাড়ি ফিরত সেই মোয়াজ্জেম। কিন্তু এবার আর বাড়ি ফেরা হলোনা। কেউ ধারনাও করতে পারেনি, তাকে অপহরণ করে তাঁর ছেলেকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হবে, না দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
অপহরণকারীদের ফোন পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

উপায়ন্তর না পেয়ে পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়ে শেষমেষ জীবন্ত অবস্থায় তাঁর মোয়াজ্জেম বাবাকে ফিরে পেল। তবে অপহরনকারীরা বয়োবৃদ্ধ মোয়াজ্জেমকে হাত, মুখ, চোখ বেধে শারীরিকভাবে বেদম প্রহার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ মোয়াজ্জেমের জামাইসহ ৩ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, (জামাই) কাহালু উপজেলার দেওগ্রাম এলাকার মৃত রইচ উদ্দিন @ কসাই গাটুর ছেলে আবু সাঈদ (৩০), চকজগতপুর এলাকার মৃত কমের উদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩৮), এবং জাঙ্গালপাড়ার আঃ রশিদের ছেলে রিদয় প্রাং (২২)। এছাড়াও হাফিজুরসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।

সদর থানা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, শহরতলীর বুজরুগবাড়ীয়া ২য় বাইপাস রোডস্থ বায়তুল রহিম জামে মসজিদের মোয়াজ্জেম গোফফার শাহ (৬৫) গত সোমবার রাতে বাড়ি থেকে রাত ১০টার দিকে ওই মসজিদে যায়। পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী জামাই আবু সাঈদ তার সহযোগিদের নিয়ে, তার শ্বশুর মোয়াজ্জেম টয়লেট সেরে যখন ঘুমাতে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে অপহরণকারী জিয়াউর রহমান তাঁর মোবাইল ফোন থেকে মোয়াজ্জেমের ছেলে আলালকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি কর। মোয়াজ্জেমের ছেলে আলাল এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাকশনে নামে। অভিযান চালিয়ে প্রথমে জিয়াউর রহমানকে আটক করলে, তাঁর স্বীকারোক্তিতে মঙ্গলবার রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর থেকে মোয়াজ্জেমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। এবং সেই সাথে আবু সাঈদ ও রিদয়কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে এস. আই মনোয়ার হোসেন সহ চৌকস পুলিশ টীম।

এব্যপারে ওসি হুমায়ুন কবির দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, আমরা অতিদ্রুত এ্যাকশান নিতে পারায় মোয়াজ্জেম সাহেবকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণকারীরা ঘটনার বিষয় স্বীকার করেছে। পলাতকদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here