বেদনাদায়ক মৃত্যুর যাত্রী হবেন না!

0
328

            মো. মোজাম্মেল হক, পরিচালক-RAB 4

বড় অদ্ভুত আচরণ আমাদের। করোনা একটি প্রাণঘাতী মারত্মক ছোঁয়াচে রোগ বিষয়টি সকলের জানা সত্তেও ঈদে বাড়িতে যেতেই হবে । পুলিশ সর্বোচ্চ করোনা ঝুঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আটকানোর চেষ্টা করছে। সকল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে নিবৃত্ত করছে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রামগন্জের মধ্য সরু রাস্তা দিয়ে যান্ত্রিক রিক্সা, ভ্যান, নসিমন, করিমন, কিংবা নদীপথে ছোট নৌকা করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। জরুরী নিত্যপন্য, কৃষিজপন্য, জ্বালানী দ্রব্য, সার, কীটিনাশক সহ জরুরী সেবা নিশ্চিত কর্তারা জন্য শুধুমাত্র পন্যবাহী ফেরী চলাচল অক্ষুন্ন রাখা হলেও সেখানে পুলিশী বাঁধা উপেক্ষা করে অবিবেচকের মত নিয়ম নীতি, শারীরিক দূরত্ব না মেনে গাদাগাদি করে উঠছেন।

একবারও চিন্তা করছেননা আপনার এই ঝুঁকিপূর্ণ আচরনের কারনে আপনি এবং আপনার পরিবারসহ হাজার হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হতে পারে।জেনে রাখুন অনাকাংখিত মৃত্যু এর অনিবার্য পরিণতি।

এতে করে কি আপনারা সত্যিকারের ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন?? নিজে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিচ্ছেন। এমনকি গ্রামগঞ্জে থাকা আপনার প্রিয়জনকে করোনা আক্রান্ত করার সুযোগ সৃস্টি করছেন। বার বার আমরা আপনাদের সামাজিক এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য জনসমাগম পরিহার করার কথা বললেও অনেকেই আপনারা অনেকেই মজা করে ভীঁড়ের মধ্যে ঈদ শপিং করছেন। কাঁচা বাজারে এসেও অনেকেই কোন স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। এমনকি এখনো আমাদের অনেককেই মাস্ক পরিধান করার জন্য অনুরোধ করতে হচ্ছে।

আমাদের মনে রাখা উচিৎ আমরা নিজেরা সচেতন না হলে সহজে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেনা। আসুন এবার আমরা যে যেখানে আছি সেখানে ঘরে বসে পরিবারের সংগে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। যাদের পরিবার গ্রামে তারাও এবার প্রয়োজনে একাকী ঈদ উৎযাপন করি। বরং আপনি করোনার নিরব বাহক হিসেবে গ্রামে ঈদ করতে গেলে করোনার কারনে সেখানে থাকা প্রিয়জনদের ঈদের আনন্দ ফ্যাকাশে হয়ে যাবে।

নিজেও মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকবেন এমনকি প্রিয়জনদের করোনা ভাইরাস সহ বেদনাদায়ক মৃত্যু মৃত্যু উপহার দিবেন। কাজেই দয়া করে সামাজিক বিচ্ছিন্ন থেকে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিজে করোনা মুক্ত থাকুন, নিজের মূল্যবান জীবন রক্ষা করুন এবং প্রিয়জনদের করোনামুক্ত থাকতে সহায়তা করুন।

আসুন ঈদের দিন কোন রাস্তা, পার্ক, বিনোদনকেন্দ্র বা আত্মীয় বা বন্ধু বান্ধবের বাড়িতে না গিয়ে প্রয়োজনে ভারচুয়ালী তাদের সংগে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যেখানে যত মানুষ দেখবেন তাদের প্রত্যেকেকে করোনাবাহক মনে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরন( Social distancing) এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলুন।

কারন কে করোনা বাহক সেটি আপনি বা আমি কেউ জানিনা। কিছু সময় পর পর ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা এলকোহল মিশ্রিত হ্যান্ড রাব বা onetime হ্যান্ড গ্লোভস ব্যবহার করা এখন আমাদের জীবনাচারের সংগী। করোনা আক্রান্ত আপনার বন্ধু, প্রিয়জন এবং প্রতিবেশীকে সাহস ও মনোবল যোগানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

করোনা মহামারীর মত বিশ্বমহামারী মোকাবিলা করার জন্য শ্রস্টার প্রতি আস্থার পাশাপাশি অসীম সাহস, মনোবল, ধৈর্য, পরমতসহিষ্নুতা, বিবেকবোধ, মানবিকতা, সতর্কতা এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। আমরা ইনশাল্লাহ অত্যন্ত সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো। সে জন্য সকলের সর্বাত্তক সহযোগীতা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here