মতিন সরকারের সিসি ক্যামেরা এখন মূর্তিমান আতঙ্ক!

0
290
একে আজাদ

সিসি ক্যামেরা এখন মূর্তিমান আতঙ্কের রুপ নিয়েছে বগুড়ার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকায়। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বা সমর্থকই শুধু নয় বগুড়ার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী এলাকার সাধারন ভোটারগনদের মাঝেও অজানা আতংক বিরাজ করছে। আর এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক এবং বাজারের মোড়ে মোড়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। আর এসব ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে তার বাড়ি চকসূত্রাপুর এলাকার বাড়ি থেকে। কোন কাউন্সিলর প্রার্থী যখন তার কর্মীদের নিয়ে ওইসব এলাকা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারনা করেন, তখনই কর্মীদের উপর আসে হুমকি আর শেষ করে ফেলার হুংকার।
নির্বাচনী দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই হুমকি-ধামকি বেড়েই চলছে। এখন সাধারন ভোটারাও যেকোন প্রার্থী বা প্রার্থীর কর্মীদের সাথে কথা বলতে ভয় করছে। রাস্তাঘাটে দেখা হলে নিজের জিবন যেন খোয় না যায়, এজন্য প্রার্থীদের থেকে এড়িয়ে চলছেন সাধরন ভোটারা।

৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবু জাফর মো.মাহমুদুন্নবী (রাসেল) বলেন, বিভিন্ন সময়ে লিখিত ভাবে কয়েক দফা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ দিয়েছি। ফলাফল জরো। বরং আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মতিন। এখন তিনি প্রায় ২০টির মতো সিসি ক্যামেরা বিভিন্ন স্থানে লাগিয়ে আমার এবং আমার কর্মী সমর্থকদের গতিবিধি নজর রাখছে।

ওই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের মাঠ নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রশাসনের কিন্তু এখানে সিসি ক্যামারার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন আব্দুল মতিনের।

সিসি ক্যামেরা আতঙ্ক, কথাটি শুনে হয়তো মনে হবে নিরাপত্তার কারণ না হয়ে, কেন আতঙ্কের কারণ সিসি ক্যামেরা? এই প্রশ্ন আসতেই পারে।

দৃষ্টি২৪ অনলাইনের প্রতিবেদকের নিকট যখন অভিযোগ করা হলো সিসি ক্যামেরা আতঙ্কে রয়েছেন ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
তখন বিষয়টি নিয়েঅনুসন্ধানে দেখো গেছে, ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচনি এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে চকসূত্রাপুর- টিএমএসএস এর পাশে, জাহিদ মেটাল ও রেডি কমপ্লেক্স এলাকাা, নুরানী মোর, ভান্ডারি মসজিদ, চকসূত্রাপুর মাদ্রাসা এবং আব্দুল মতিনের বাড়ির সামনে।

নাম প্রকাশ করার না সর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, চকসূত্রাপুর তার বাড়ি থেকে এসব সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রন করা হয়।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মতিনের সাথে মূঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে জেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুল আলম শাহ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন আব্দুল মতিনের সিসি ক্যামেরা আতঙ্ক?
গতবছর ১৭ জুলাই দেশজুড়ে আলোচিত আলোচিত নাম ছিল কুফান সরকার। ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে বছরের বগুড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনার নায়ক ছিলেন শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক তুফান সরকার। অভিযুক্ত সেই তুফান সরকারের বড় ভাই আব্দুল মতিন ওরফে মতিন সরকার। তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়াও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মতিন সরকারের বিরুদ্ধে সদর থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে তিনটি, ২০০৩ সালে একটি এবং ২০০১ সালেও দুটি মামলা হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে চারবার, র‌্যাব দুবার এবং যৌথ বাহিনী একবার গ্রেপ্তার করেছে।
১৯৯৮ সালের ১৮ জুন নুরানী মোড়ে খুন হন গোলাম রসুল। ওই হত্যাকাণ্ডে মতিনের নাম আসে। ২০০১ সালে চক সূত্রাপুরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন মতিনের ঘনিষ্ঠ মুন্সি উজ্জ্বল। মাটি ঢালি বাণিজ্য মেলার মাঠে ২০১১ সালে খুন হন যুবলীগের নেতা শফিক চৌধুরী। এ ঘটনায়ও মতিনের নাম আসে। ২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর যুবদলের নেতা ইমরান হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন মতিন। ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট যুবলীগের নেতা মতিনকে চামড়া গুদাম লেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফেনসিডিল, বিয়ার, হেরোইন, বিদেশি চাকু, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, ১০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। কিন্তু পরদিন র‌্যাবের তৎকালীন অধিনায়কের অপসারণ দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে যুবলীগ।
আর তুফানকে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। একই বছরের ২০ জুলাই একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তুফান ও তাঁর তিন ভাই ঝুমুর, ওমর ও সোহাগ গ্রেপ্তার হন।
সর্বশেষ গত মাসে বগুড়ায় ব্যবসায়ীসহ ৩ ব্যক্তিকে অপহরণ এবং পিকআপ ভ্যান চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ সরকার (৩৬) ও শাহীনুর রহমান (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে আলোচিত স্কুলছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই তুফান আর মতিন সরকারের বড় ভাই সোহাগ।

এতো কছিুর পরও যখন সিসি ক্যামেরা আর হুমকি ধামকি , তাই জনমনে আতঙ্ক কমাতে প্রশাসনকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য সাধারন ভোটারদের।

উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ আয়তনের প্রাচীন বগুড়া পৌরসভার নির্বাচন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপে ইভিএম এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং ২১টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৩০জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here