গিয়াস উদ্দিন টিক্কা, বিশেষ প্রতিবেদক:

অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৃষ্টি২৪ডটকম এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর মাছ চোরদের বিরুদ্ধে পুলিশী এ্যাকশন শুরু করেছেন ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা। তার নির্দেশে এস,আই আনিসুর রহমান, এস আই নুরুজ্জামান, এস আই আকবর ও এস আই রিপন একদল পুলিশ সোমবার রাতে অভিযান শুরু করেন।

আদালতের আদেশ অমান্য করে ধুনটের টেংরাখালি জলমহল থেকে চুরি করে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করা ও স্থানীয় জেলে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তোতা ফকির নামের অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

পুলিশের সহযোগীতায় টেংরাখালি সরকারী জলমহল থেকে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি বিষয়ে টংরাখালি মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির সভাপতি নিমাই চন্দ্র হাওলদার অভিযোগে করে বলেন, ৪২ একর আয়তনের টেংরাখালি জলমহলটি অবৈধ ভাবে নিতিমালা বহিরর্ভুত ভাবে ১৪২৪-২৯ বঙ্গাব্দ মেয়াদে জলমহল থেকে ৬/৭ কিলোমিটার দুরের পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া ধীবর মৎস্যজিবি সমবায় সমিতিকে লীজ দেওয়া হয়। এরপর পেঁচিবাড়ি মলোপাড়া মৎস্যজিবি সমিতি ওই জলমহলটি আব্দুর রউফ খান নামের এক ব্যাক্তিকে অবৈধ ভাবে সাবলীজ দেয়। আমি ওই জলমহল সাব লীজ দেওয়ার প্রতিবাদে হাই কোটে ৭৬৪৩/২০১৭ নং মামলা দায়ের করি। আদালত ২০১৯ সালে সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমানিত হলে লীজ বাতিল করে প্রকাশ্যে টেন্ডার দেওয়ার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক গত বছর ২৩ জুন সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমান পেয়ে একই বছর ১১ জুলাই জেলা জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় টেংরাখালি জলমহলের লীজ বাতিল সহ জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করেন। এরপর পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক সহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়া সহকারী জজ আদালতে ২৮০/১৯ অন্য একটি মামলা করলে আদালত অস্থায়ী নিধোজ্ঞা দেন। ওই সমিতির পক্ষে অধিকতর তদন্তের জন্য ভুমি মন্ত্রনালয়ে একটি আবেদন করেন।

ভুমি মন্ত্রনালয় অধিকতর তদন্তের জন্য রাজশাহি বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হুমায়ন কবির খোন্দকারকে সরেজমিনে তদন্ত করে টেংরাখালি জলমহলটি সাবলীজ দেওয়ার সত্যতা প্রমান পেয়ে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারী ভুমিমন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দেন।

নিমাই হওয়ালদার আরো জানান, ২৮০/১৯ নং মামলার আমি মামলার ৭ নং বিবাদী হিসাবে হাইকোটে আপীল দায়ের করি। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী হাইকোট ওই মামলাটির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের ধুনট থানার তৎকালীন ওসি ইসমাইল হোসেন জলমহল থেকে মাছ মারা বন্ধ করেন। এরপরেও আব্দুর রউফ খানের বাহিনী চুরি করে মাছ ধরে। এতে গত ৫জুলাই বগুড়া জেলা প্রশাসক টেংরাখালি জলমহল থেকে অবৈধ ভাবে মাছ চুরির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার মোহন্তকে লিখিত নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় কুমার সরেজমিনে তদন্ত করে মাছ চুরির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ১৯ জুলাই ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে নির্দেশ দেন।

গত রবিরার মাছ চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করারপর সোমবার দিন দপুরে এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী খোকা ফকির , তোতা ফকির, লালু ফকির , আলতাব , কামাল , ছাকার ও লিটন সহ ১০/১২জন টেংরাখালি জলমহল থেকে জাল ফেলে কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে।

প্রতিবাদ করায় টেংরাখালি মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির সভাপতি নিমাই চন্দ্র হাওয়ালদার সহ তাদের গ্রামের জেলে পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে।

বিষয়টি ধুনট থানা ওসিকে জানাইলে রাতেই সরকারী জলমহল থেকে অবৈধ ভাবে মাছ চুরি ও সংখ্যা লঘু পরিবারের সদস্যদের হুমকির অভিযোগে সোমবার রাতেই অভিযান চালায়।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন তার বিরুদ্ধে সংবাদে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। ইউএনও সঞ্জয় কুমার মোহন্ত তাকে আদালতের আদেশের বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার তিনি সিধান্ধ নিতে দেরী হয়েছে।

ইউএনও সঞ্জয় কুমার মোহন্ত জানান, আদালতের আদেশের কাগজ পত্র নিয়ে ওসি কৃপা সিন্ধু বালার সাথে আলাপ আলোচানা করে মঙ্গলবার থেকে সিধান্ধ নেওয়া হয়েছে রউফ খান হোক আর যাই হোক টেংরাখালি জলমহল থেকে চুরি করে মাছ ধরার চেষ্টা করা হলে গ্রেফতার করে কোটে সোপর্দ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here