ক্রীড়া ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের সঙ্গে দেশে চলেছে টিকে থাকার  যুদ্ধ। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ অসুস্থই হচ্ছে তা নয়। জীবন যাত্রা থেমে গেছে। কাজ না থাকায় পদে পদে বাড়ছে বিপদ। এই সময়ে মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি। ভাইরাসের কারণে শিল্পনগর নারায়ণগঞ্জ বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত ভালো নেই কেউই।
কষ্টে আছেন দেশের স্বাধীনতায় অবদান রাখা অনেক মুক্তিযোদ্ধাও। এবার তাদের পাশে দাড়িয়েছেন করোনা যুদ্ধের দুই সৈনিক জাতীয় দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও নাজমুল ইসলাম অপু।

দু’জনের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের ফরাজিকান্দা এলাকাতে বুধবার ১৫ মুক্তিযোদ্ধাকে দেয়া হয়েছে অন্যরকম সম্মাননা। জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে তাদের হাতে নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য তুলে দিয়েছেন স্থানীয় ইউএনও।

এই বিষয়ে অপু দৈনিক মানবজমিনেক বলেন, ‘আমরা চিন্তা করেছি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য। অনেকেই আছেন সেই ক্ষতির কথা কাউকে বলতে পারছেনা। এর মধ্যে আমাদের এলাকাতে (ফরাজিকান্দা) এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা বিপদে আছেন। তাই আমি ও তামিম ভাইয়ের পক্ষ থেকে তাদের একটি সম্মানী উপহার হিসেবে দিতে চাই। তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। যা তুলে দিয়েছেন ইউএনও ম্যাডাম।’
নারায়ণগঞ্জ শিল্পনগরী হওয়াতে এখানে হাজার হাজার শ্রমিকের বসবাস। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তাদের বেশির ভাগই বেকার হয়ে পড়েছে। এত দিন এমন ৮’শ পরিবারকে নাজমুল ইসালাম অপু ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের সহযোগিতা নিয়ে দিয়েছেন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।  এই পণ্য বিতরনের সময় খেয়াল রাখা হয়েছে যেন রমজান মাসে সেহরিতে কেউ যেন না খেয়ে থাকে। এছাড়াও ১৮০০ পরিবারকে এক দিনে দেয়া হয়েছে উন্নত মানের ইফতার। এমন সব প্রসংশনীয় কাজ শেষ দিকে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেয়ার দারুণ ভাবনাটি সত্যি প্রশংসা কুড়াচ্ছে জাতীয় দলের এই দুই ক্রিকেটার। এ নিয়ে অপু  বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টা অন্যরকম। তাদের অবদানকে আমরা অস্বীকার করি কিভাবে। এখন তারা বিপদে আছেন তাই তাদের সম্মান দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।’
এই কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ ২০ দিন ধরে নিজের বাড়ি থেকে আলদা আছেন নাজমুল ইসলাম অপু। এই স্পিনার নিজের হাতে সারাদিন ও সারারাত জেগে সবার জন্য খাদ্য প্যাকেট করেন। আবার নিজেই পৌছে দেন বাড়ি বাড়ি। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে যদি পাশে না দাড়াই তবে কবে কখন করবো? এই সব মানুষই তো আমাদের ক্রিকেট দেখে, ভালোবাসে। তারা না থাকলে আমাদের ক্রিকেট খেলে কি হবে। তাই আমি মাঠে নামি তাদের জন্য কিছু করতে। পরে যখন একা পেরে উঠছিলাম না। তখন দারুণ ভাবে আমাকে সহযোগীতা করে এগিয়ে আসেন তামিম ইকবাল ভাই। তাই আমি এত মানুষকে করতে পারছি। যত দিন সম্ভব আমি এই কাজ করে যাবো। নিজেদের সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here