যতক্ষণ ক্যামেরা ততক্ষণ মাঠে

0
278

রাইজিংবিডি ডটকম, (কুষ্টিয়া প্রতিনিধি):

করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের কয়েকটি জেলায় ধান কাটার জন্য কৃষি শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলায় কৃষি শ্রমিকের সংকট নেই। এই অঞ্চলে ধান পুরোপুরি পাকেনি। এমনকি এই জেলায় নেই হঠাৎ বন্যার শঙ্কা। ধান কাটতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আধুনিক যন্ত্র।

তারপরও গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটা করে জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোমিন মন্ডলের ধান কাটায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

মোমিন মন্ডল গত সোমবার (০৩ মে) দোস্তপাড়া এলাকার নান্টু মন্ডলের জমির ধান কাটবেন জানিয়ে আগে থেকেই নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি থাকার নির্দেশ দেন। এজন্য জেলার কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন।

পরিকল্পনামাফিক উল্লেখিত দিন সকালে নেতাকর্মীরা মাথায় মাথাল, হাতে কাচি নিয়ে মোমিন মন্ডলের নেতৃত্বে ধান কাটতে শুরু করেন। এ সময় একজন নারী সদস্যকেও ধান কাটতে দেখা যায়। যদিও কোথা থেকে ধান কাটা শুরু হবে এ বিষয়ে শুরুতে তারা দ্বিধায় ছিলেন। কৃষক দেখিয়ে দেওয়ার পর শুরু হয় ধান কাটার পালা। নেতাকর্মীদের অনেকেই এ সময় ধান কাটা থামিয়ে ক্যামেরাম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানতে চান- ছবি ঠিকমতো উঠছে তো?

জমির মালিক নান্টু মন্ডলের হিসেবে ২০/২৫ জনের দল ত্রিশ মিনিটে এক পাই (আড়াই কাঠা জমি) ধান কেটেছেন। এরপর শুরু হয় আঁটি মাথায় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য ধারণের পালা। ক্ষেতমালিকের বাড়ির উঠানে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ছিলো ধান মাড়াইয়ের যন্ত্র। মোমিন মন্ডল নিজেই ধান মাড়াই করেন। এই দৃশ্যও ক্যামেরায় ধারণ করার নির্দেশ দেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধান কাটা, আঁটি বাঁধা এবং ধান মাড়াই শেষে তারা ফিরে যান। তারা বিষয়টিকে ‘অসাধ্য সাধনের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দেশজুড়ে অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়াতে যেভাবে এমপি, নেতাকর্মীরা ব্যস্ত হয়েছেন, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন কৃষক লীগের এই নেতা।

এ প্রসঙ্গে জমির মালিক নান্টু মন্ডল বলেন, ‘আমি তাদের ধান কাটার জন্য বলিনি। চেয়ারম্যান (মোমিন মন্ডল) নিজেই আমাকে একদিন জানালেন- তোদের ধান কাটা হবে। আমরা নেতাকর্মী নিয়ে আসবো।’

স্থানীয় একাধিক কৃষক পরিচয় গোপণ রাখার শর্তে বলেন, ‘ক্যামেরা যতক্ষণ ছিলো, ততক্ষণ তারা মাঠে ছিলেন। তারপর আর তাদের দেখা যায়নি। সাংবাদিক ডেকে এনে মানুষকে জানানোর জন্যই ধান কাটার নাটক সাজিয়েছেন তারা। কৃষক সমাজের সঙ্গে এগুলো তামাশা ছাড়া কিছু না!’

এলাকায় কৃষি শ্রমিকের সংকট নেই স্বীকার করে মোমিন মন্ডল বলেন, ‘আমি শুধু কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছি তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য। দলীয় নির্দেশনায় আমি ধান কাটতে গিয়েছিলাম।’

এ দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সাহা জানান, এ জেলার ধান অন্য জেলা থেকে পরে পাকে। উল্লেখিত এলাকার ১ শতাংশ ধানও পাকেনি। ১৫/২০ দিন পরে ধান কাটা শুরু হবে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, কুষ্টিয়া থেকে ধান কাটার জন্য ৫ হাজার ৮৩৬ জন শ্রমিককে অন্য জেলায় যাওয়ার সরকারীভাবেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এখানে কৃষি শ্রমিক সংকটের প্রশ্নই আসে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here