করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দারিদাহ গ্রামের ১৫টি বাড়ির ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেন। এছাড়া সীমানা নির্ধারনের জন্য সতর্কতামূলক লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে দেন প্রশাসন। ছবিটি রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে তোলা।

আবুল কালাম আজাদ, করোনা ভাইরাস সন্দেহে ১৫ টি বাড়ি ‘লকডাউন’ ঘোষণার পর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দারিদাহ গ্রাম জুড়েই আতঙ্ক আর উৎকন্ঠা বিরাজ করছে বাসিন্দার মাঝে। প্রয়োজন ছাড়া এই গ্রামের লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বন্ধ রয়েছে সব দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
গতকাল রবিবার বেলা ১১ টার দিকে দাড়িদাহ এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। এর আগে গত শনিবার সকালে সর্দি-জ¦রে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এক জরুরি সভায় দাড়িদাহ গ্রামের ১৫ টি বাড়িকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে।
৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সর্দি-কাশি এবং গায়ে জ্বর নিয়ে গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বগুড়ার শিবগঞ্জের দাড়িদাহ গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসেন। গত শনিবার বাড়িতেই মারা যান তিনি।
সূত্র জানায়, করোনার সংক্রমণে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে দাড়িদাহ গ্রাম। এ কারণে এই এলাকার সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ১৫টি বাড়ির সকল সদস্যদের বাড়ির মধ্যে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া অবাধ বিচরণ ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন হওয়া ১৫টি বাড়ির চারপাশে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। সুনশান নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে পুরো গ্রামজুড়ে। লকডাউনে ১৫ বাড়ির প্রায় ৫০ জন সদস্য বন্দী জীবনযাপন করছেন। ঘর থেকে কেউ বেড় হচ্ছেন না। সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশকে মাইকিং করছেন।
দাড়িদহ ‘লকডাউন’ এলাকার পাশের বাড়ির বাসিন্দা রেজাউল করিম জানান, ‘করোনা রোগীর যেসব উপসর্গ মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে, এমন উপসর্গই মারা যাওয়া ব্যক্তির ছিল। তিনি মারা যাওয়ার পরপরই প্রশাসন থেকে লোকজন এসে ১৫টি বাড়ি লকডাউন করে দেন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে এসে চারদিন ধরে তিনি এলাকায় এসেছিলেন। বাহিরের ঘুরে বেড়িয়েছেন। এখনতো পুরো গ্রামবাসীই আতঙ্কে আছি। লকডাউন হওয়া বাড়ি ছাড়াও করোনার ভয়ে আশেপাশের সব দোকান-পাট বন্ধ করে দিয়েছেন লোকজন। এতে করে নিত্য প্রয়োজনীয় কোনো জিনিসই পাওয়া যাচ্ছে না গ্রামটিতে।’
ওই গ্রামের হবিবর মিয়া বাসিন্দা বলেন, তার বাড়ি লকডাউনের আওতায় নয়। তারপরও তার বাড়িতে প্রতিদিন দুইবার জিবানুনাশক স্প্রে করছেন। বাড়ির সবাইকে সাবধান করছেন তিনি।
মানিক হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘টিভিতে দেখাচ্ছে করোনা নাকি একজন থেকে পুরো গ্রাম ছড়ায়। আমরা এখন বাঁচব না কী মরব জানিনা।’
এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ও অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশাচালক, অটোচালক, ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা, হোটেল শ্রমিক, বাস স্টান্ডের কুলিসহ স্বল্প আয়ের মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কীনা তা পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। যে ব্যক্তি মারা গেছেন তার বাড়ির পাশের ১৫টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। পুরো গ্রাম তো লকডাউন করা হয়নি। এ জন্য এলাকাবাসিকে আতঙ্ক না হওয়ার পরামর্শ দেন; বরং সকলের সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাহলেই সকলেই শতভাগ নিরাপদ থাকা সম্ভব। এছাড়া লকডাউন করা বাড়ি গুলোর বাসিন্দাদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বাহিরে না যাওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি মারা গেছেন তার স্ত্রীর কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওষুধও দেওয়া হয়েছে। আর লকডাউন এলাকার কোনো খাবার লাগলে উপজেলা প্রশাসন পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here