শজাহানপুরে পুলিশ ও ছাত্রলীগ পরিবারে মারামারি, আহত ৬

0
296
নিজস্ব প্রতিবেদক:

বগুড়ার শাজাহানপুরে জমিতে পানি সেচ নিয়ে দ্বন্দের জের ধরে পুলিশ সদস্য এবং ছাত্রলীগ পরিবারের ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ক্ষুদ্রফুলকোর্ট গ্রামের এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ক্ষুদ্র ফুলকোট গ্রামে সেচ স্কীম নিয়ে একই এলাকার আব্দুস সামাদ দেওয়ান  এবং মোজাম্মল হক দেওয়ানের মধ্যে গত তিন বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

উপজেলা চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ডেকে আপোষ-মিমাংসা করে দেন।

আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে মোজাম্মেল হক দেওয়ানের পরিবারের লোকজন তাদের সেচ পাম্পের ড্রেন নির্মান কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুস সামাদের পরিবারের সদস্যরা নির্মান কাজে বাঁধা দেন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

মারামারির ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬জন আহত হয়েছেন। আহতরা বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহতরা হলেন আব্দুস সামাদ দেওয়ান, তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা শামীম,  আব্দুর রশিদ,  রবিন।

অপর পক্ষের আহতরা হলেন মোজাম্মেল দেওয়ানের ছেলে ফারুক হোসেন জুয়েল এবং শাহাদাত হোসেন।

এঘটনায় মোজাম্মল হক দেওয়ান বাদি হয়ে ছাত্রলীগ নেতা শামীমসহ ৬জনকে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ বাদি হয়ে পুলিশ সদস্য সহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ছাত্রলীগ নেতা শামীম বলেন, মোজাম্মেল হক দেওয়ানের ছেলে পুলিশ সদস্য ফরহাদ হোসেন (৩৫) একদল বহিরাগতদের ভাড়া করে নিয়ে এসে তাদের সেচ পাম্প থেকে ড্রেন করে বিলকেশপাথার কচুয়ার বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর বাঁধ কেটে সেচ স্কীমের ভিতর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাঁধা দিলে পুলিশ কনস্টেবল ফরহাদ হোসেন ও তার বাবা, ভাইসহ বহিরাগত ভাড়াটিয়ারা ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড, লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেদম মারপিট করে।

এদিকে মোজাম্মেল হক দেওয়ানের ছেলে পুলিশ সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেন, তিনি পুলিশের নায়েক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) চাকরী করেন। ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবার নামে সেচ স্কিম। দীর্ঘদিন ধরে সেচ কাজ চালিয়ে আসছে। আমার দুই ভাই স্কিমের ড্রেন নির্মান করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা শামীম তার বাহিনি নিয়ে আমার দুই ভাইয়ের উপর হামলা চালায়। এক ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমি খবর শুনে দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। এটাই আমার অপরাধ।

শাজাহানপুর থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here