শাজাহানপুরে মাদ্রাসার সভাপতি-সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

2
666
সুমন সরদার:
মাদ্রাসার জমি বিক্রি, ভূয়া দাতাসদস্য নিয়োগ এবং শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মানিকদিপা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আলমগীর হোসেন আর সুপার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়ম আর দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, অত্র মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদ গত ১জুলাই ২০১০ইং সাল থেকে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি সভাপতি পদে রেখে দিয়েছেন। এই দুজনের যোগসাজসে ১০ বছরে মাদ্রাসার নামীয় নিজস্ব অনেক জমি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন দুজনই।
এছাড়া তাদের অপকর্ম ঢাকতে তাদের অনুসারি আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তিকে মাদ্রাসা কমিটির দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ২ লাখ টাকা দান করে দাতা সদস্য হওয়ার বিধান থাকলেও আব্দুর রউফ মাত্র ৪ হাজার টাকা মূল্যের দশমিক দুই শতাংশ জমি দিয়ে দাতা সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, মাদ্রাসাটির কলা বিভাগ, বিজ্ঞান বিভাগ নিমিত্তে ২০১৫ সালে আবু রায়হান নামের একজনকে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন মাদ্রাসা কমিটি। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগ চালুর অনুমতি না পাওয়ায় ওই শিক্ষক ৪ বছর অনুপস্থিত থাকেন। কিন্তু চলতি বছরের আগষ্ট মাসে বিজ্ঞান শিক্ষক আবু রায়হানকে ভৌত বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু ভৌত বিজ্ঞান শিক্ষক নিয়েগে যা এনটিআর সিএ দেওয়ার কথা ছিল। একই সাথে একজন আয়া, একজন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন গ্রস্থগারিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ দেয়া হয়েছে বৈশ্বিক করোনা কালীন সময়ে রাতের অধাঁরে।
এই নিয়োগ বানিজ্যের পর করোনা কলীন সমেয় ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষক ষ্টাফ কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমনে যান।
অভিযোগ সরেমিজন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সুপার এবং সভাপতির যোগসাজশে খড়ণার মরজিনা খাতুনের নিকট দশমিক ৪ শতাংশ, যাহার দলিল নং ২১৩৩, মানিকদিপা পূর্বপাড়ার আব্দুল মান্নানের নিকট দশমিক ৪ শতাংশ, যাহার দলিল নং ২১৩২, শাহিনুল ইসলামের নিকট দশমিক ৪ শতাংশ, যাহার দলিল নং ২১৩১, পদ্মপাড়ার আরিফুল ইসলামের নিকট দশমিক ৮ শতাংশ, যাহার দলিল নং ২৭০০, বিন্যাচাপড়ের সাইফুল ইসলামের নিকট দশমিক ৭ শতাংশ, যাহার দলিল নং ৯৩১৪। আর এসব জমি মাদ্রাসার পক্ষে বিক্রি করেছেন সুপার আবুল কালাম আজাদ। যা বাজার দরের চেয়েও স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকদিপা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল কালাম আজাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি বিক্রিসহ নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গ নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে সভাপতি সাহেবর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
ওই মাদ্রাসার সভাপতি আলমগীর হোসেনর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, শুধু জমি বিক্রিই করা হয়নি- জমি কেনাও হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। করোনা কালিন সময়ে আনন্দ ভ্রমন বিষয়ে বলেন, মাদ্রাসা ছুটি কালীন সময়ে বেড়াতে যাওয়া হয়েছে। এখানে দোষের কিছু নেই।
অভিযোগকারি শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসাতে রামরজত্ব কায়েম করেছে সুপার আর সভাপতি। তারা এই করোনাকলীন সময়ে নিয়োগ বানিজ্যেও টাকায় আনন্দ ভ্রমনও করেছেন। মাদ্রাসাটি রক্ষা করতে দুর্নীতিবাজ সুপার এবং সভাপতির বিচার চান তিনি।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসটি) মাসুম আলী বেগের সাথে মূঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৃষ্টি২৪ ডটকমকে বলেন, ওই মাদ্রাসার অনিয়ম তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা হেয়া হবে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here