শাজাহানপুরের ইউএনও’র বিরুদ্ধে এবার প্রকল্পের টাকা আটকিয়ে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন

0
449

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: 

বগুড়ার শাজাহানপুরে এবার ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আটকিয়ে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জনসাধারন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলা সদর মাঝিড়া বটতলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর শারদীয় দূর্গাপুজা উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সরকারের অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে মানিকদিপা হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষ। এসময় তারা ইউএনও’র গাড়ি আটকিয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করেন।

মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এমপি’র টিআর বরাদ্দ ও সাধারন বরাদ্দের ২৪ টি প্রকল্পের অধিনে ১২ লক্ষাধিক টাকা আটকিয়ে রেখেছেন। বার বার ধর্ণা ধরলেও তিনি তালবাহানা করছেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার ২৪টি প্রতিষ্ঠান।

জগন্নাথপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মাঠের গর্ত ভরাট প্রকল্পের অধিনে ৩ টন টিআর বরাদ্দ (নগদ টাকা) দেয়া হয়। কাজ সমাপ্ত করা হলেও বরাদ্দের ১ লক্ষ ৩০ হাজার পাঁচশত টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

বড়পাথার পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক শামছুল হক টুকু জানান, বড়পাথার পূর্বপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ সংস্কার প্রকল্পের অধিনে ১ টন টিআর (নগদ টাকা) বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত বরাদ্দের ৪৩ হাজার পাঁচশত টাকা দেয়া হয়নি। একাধিকবার ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি তালবাহানা শুরু করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে (পিআইও) যোগাযোগ করা হলে আগামী অর্থবছরের প্রকল্পের সাথে এই টাকা আসবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুল ইসলাম জানান, আগামী অর্থবছরের প্রকল্পের সাথে এই টাকা আসার কোন সম্ভাবনা নাই। এই তথ্য কে কিভাবে পেয়েছে তা তার জানা নেই। এরকম কোন সরকারী নির্দেশনা নাই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প কমিটি কাগজপত্র জমা না দেয়ায় ট্রেজারিতে বিল দাখিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনুত্তোলিত টাকা হিসেবে সরকারী কোষাগারে ওই টাকা ফেরত গেছে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা পারভীনের সাথে তার সরকারী মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here