শাজাহানপুরে ১০ মুক্তিযোদ্ধাকে না মঞ্জুর করে তালিকা প্রকাশ

0
176

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

হুমকি-ধামকির মধ্য দিয়ে বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ২১ জন বেসামরিক গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনের সঠিকতা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে ৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মঞ্জুর করা হয়েছে এবং ১০ জনকে না মঞ্জুর ও অপর ২ জনকে দ্বিধাবিভক্ত করে তালিকা প্রকাশ করেছে যাচাই বাছাই কমিটি।

গত রবিবার এসংক্রান্ত একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে হুমকি ধামকির ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় সাধারন ডাইরী (জিডি নং-৭৭) করেন যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌর গোপাল গোস্বামী।

না মঞ্জুরকৃতরা হলেন, রানীরহাট বয়রাদিঘী এলাকার মৃত আবু তাহের প্রামানিকের ছেলে নুরুজ্জামান, জোড়া মালিপাড়ার মৃত গেন্দু সোনার ওরফে গরিবুল্লার ছেলে হজরত আলী, মুনসেফপুরের কিসমতুল্লার ছেলে আফছার আলী, মাদলা এলাকার কাবেজ উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে নুরুল ইসলাম, দড়িনন্দ গ্রামের ময়েজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে ফরিদ উদ্দিন মন্ডল, মাদলা এলাকার মফিজ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম, কৈগাড়ী পশ্চিমপাড়ার ইজাম উদ্দিন সোনারের ছেলে আব্দুর রহমান সোনার, মুনসেবপুরের আলহাজ্ব কাসেম আলীর ছেলে রমজান আলী খন্দকার, লক্ষীকোলার মৃত কেরামত আলী মন্ডলের ছেলে আবু তাহের এবং ঘাষিড়া গ্রামের মৃত নবির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে মৃত নিজাম উদ্দিন মন্ডল।

দ্বিধাবিভক্তরা হলেন, শৈলধুকড়ী গ্রামের আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে আব্দুর রহমান আকন্দ ও চোপীনগর কামারপাড়ার কাজেম উদ্দিনের ছেলে রাজিবুল ইসলাম।

মঞ্জুরকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন, কৈগাড়ী এলাকার শাহাদৎ হোসেনের ছেলে খন্দকার আবু নছর, রানীরহাট জোড়া ফকিরবাড়ি এলাকার হবিবর রহমান ফকিরের ছেলে এফএমএ ফজল মৌলভী, জোড়া মালিপাড়া গ্রামের আমেদ আলীর ছেলে আবুল কাশেম, মাদলার পরশ উল্বার ছেলে মোকলেছুর রহমান, লক্ষীকোলা গ্রামের হুরমতুল্যার ছেলে হোসেন আলী, ফুলতলা এলাকার হাফিজার রহমানের ছেলে আব্দুস সাত্তার, সাজাপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে মনসুর রহমান, বৃ-কুষ্টিয়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মোকলেছুর রহমান এবং কৈগাড়ী এলাকার সাদত আলী খন্দকারের ছেলে খন্দকার রেজাউল আলম মোঃ বেলাল।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌর গোপাল গোস্বামী জানান, যাচাই-বাছাই শুরুর আগে কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী অর্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনিয়ম করতে চেয়েছিলেন। এতে বাধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী কমিটির অপর সদস্য লুৎফর রহমানকে বলেছেন, তুমি আমার (লিয়াকত) সাথে থাকো। গৌর গোপালকে যাচাই-বাছাই কক্ষে ঢুকতে দিব না। এছাড়াও অপরিচিত এক নাম্বার থেকে তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি তোর কারণে কোন মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে তাহলে তোকে দেখে নেয়া হবে।

এঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারী শাজাহানপুর থানায় সাধারন ডাইরী (জিডি নং-৭৭) করা হয়েছে।

থানার ওসি (তদন্ত) আমবার হোসেন জিডি’র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আদালতে প্রসিকিউশন হবে। সত্যতা পাওয়া না গেলে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।

যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আহমেদ জানান, গত ২৫ জানুয়ারী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল হতে শাজাহানপুর উপজেলার ২১ জন বেসামরিক গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনের সঠিকতা যাচাই-বাছাই করতে তালিকা পাঠানো হয়। গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারী অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই তালিকা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) পাঠিয়ে দেয়া হবে। জামুকা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here