শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসনের অবহেলা ‘করোনা’ পরিস্থিতি বিপর্যয়ের শঙ্কা

0
520
শাহানপুরের বনানী বন্দরে ওএমএসের চাল বিক্রির স্থানে উপচে পড়া ভীর। ছবিটি মঙ্গলবার সকালে তোলা।

একে আজাদ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে ‘সামাজিক দূরত্ব’ (তিন ফুট দূরত্ব) বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু বগুড়ার শাজাহানপুরে বনানী বন্দরে সেই ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানছেন না অনেকেই। ওএমএসের চাল দেওয়ার নির্ধারিত স্থান থেকে খাদ্য সামগ্রী কিনতে এসে প্রায়ই একে অন্যের গা-ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার রক্ষা করছেন না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে গা ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়ানোর কারণে করোনা-সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। আর স্থানীয়রা এসব সমাগমের জন্য খোদ উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করছেন।
যখন সারাদেশের ন্যায় বগুড়া শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত জনসমাগম ঠেকাতে সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ শাজাহানপুর উপজেলার বনানী বন্দর দেখে মনে হবে করোনার সচেতনতা বলতে কিছুই মানা হচ্ছেনা।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে বনানী বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত, কর্মহীন মানুষদের জন্য খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালিত বিশেষ ওএমএসের’ মাধ্যমে চাল ১০ টাকা, আটা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাথাপিচু ৫ কেজি করে দেয়া হচ্ছে। ওই দোকানের সামনে শতশত মানুষ একে অন্যের গাঁ ঘেঁষে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। এসব মানুষদের সকলেই নিম্ন আয়ের। এদের মধ্যে রয়েছে দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশা, ভ্যানচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল রেস্তোরাঁর শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবি মানুষ।
শুধু একদিনই নয়, প্রতি রবি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এভাবেই দীর্ঘ লাইনে চাল-আটা বিক্রয় চলে।
লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকা ওএমএসের দোকান থেকে চাল কিনতে আসা উপজেলার বেজোড়া গ্রামের রহিমা বিবি বলেন, করোনা তো এখনো ধরেনি আমার। কিন্তু এখান থেকে চাল কিনতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে। ক্ষুধার জ¦ালা বড় জ¦ালা। সকাল ৮ টার দিকে এসে লাইনে দাঁড় হয়েছি। এখনও চাল পাইনি। এখানে দূরত্ব বজায় তো, কেউ রাখছেনা। আর প্রশাসনের লোকজন তো আমাদের বাধাও দিচ্ছেন না। আপনারা কেন, আমাদের দূরত্ব থাকতে বলছেন? দূরত্ব মানলে তো চাল-আটা কিনতে পারব না। এমন বক্তব্য চাল-আটা কিনতে আসা অনেকেরই।
ওএমএসের বনানীর পরিবেশক আজিজার রহমান বলেন, ‘সরকারের নিদের্শে আর সরকারের বরাদ্দকৃত চাউল-আটা বিক্রি করছি। স্বল্প মূলে। লোকজন তো এভাবেই সবসময় ভিড় করে থাকে। এজন্য লোকজনের দূরত্ব বজায় রাখতে অতিরিক্ত চারজন লোক নেয়া হয়েছে। তারপরও আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। এজন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ সরকারি বরাদ্দ বন্টন বা বিক্রি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন সবসময় অবহিত থাকেন। পুরো দায়িত্বটা তাদের। আমরা ডিলারেরা যদি বিক্রি বন্ধ করে দেই, তাহলে আবার আমাদের ডিলারশীপ বাতিল করা হবে। তাই আমারা আর কী করতে পারি?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীনকে একাধিকবার ফোন করলেও পাওয় যায়নি।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, এটার দেখভালের দায়িত্ব খাদ্য বিভাগের। তারপরও বিষয়টি নিয়ে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে আতঙ্কের বিষয় দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে আরও আগেই। তার মানে এখন প্রতিটি মানুষের নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বই কার্যত প্রধান ‘ওষুধ’। করোনাভাইরাসের দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকেই দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এরপর থেকে ছুটির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। হচ্ছেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here