হারুন উর রশিদ

কে বলেছে সাংবাদিকদের কোন আবেগ আপ্লুত হতে নেই? শুধু আবেগ ই বা কেন, বিবেক সহ সমস্ত গুণ ই সাংবাদিকদের মাঝে বিদ্যমান থাকে।
এমন ই একটি গল্প তুলে ধরবো আপনাদের সামনে,

আমাদের বগুড়ার স্বরন ভাই এর এই ছবিটিতে পরিস্থিতির স্বীকার একটি পরিবারের গল্প শোনানো হয়েছে এবং একটি করুণ দৃশ্যের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যাকে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে উনারা সহায়তার চেষ্টা করেছেন।

#তবে এটা কি কেউ বুঝেছেন কিভাবে পরিচয় গোপন করে মানুষকে কিভাবে সহায়তা করতে হয়। বর্তমান সময়ের জন্য বড়ই দৃষ্টান্ত মূলক একটি ছবি এটি।

#ভাই আপনার এই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাক দেশের আনাচে কানাচে।আপনার এমন ছবি দেখে মানুষের লোক দেখানো দান কমে যাক।

#সাংবাদিক যে সমাজের আর একটি চোখ তা আপনি নতুন করে শিখালেন। ভালো থাকুন এবং সুস্থ থাকুন

নিচে Tanjizul Islam Shoron ভাইটির স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলঃ-

ছবিটি আপনার মনে প্রশ্ন জাগাতে পারে কেন রাতের বেলা বাহিরে কিংবা কি আছে আমার পিছনে সেই ব্যাগে
#জানতে_হলে_পড়তে_হবে
#পরিস্থিতির_স্বীকার_বলতে_না_পারা_পরিবারের_কথা

একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে সারাদিন কাজ করলেও অন্যান্য নিউজ চ্যানেলের প্রতিনিধিদের চেয়ে আমার একটু কষ্ট কমi করতে হয়। শুক্রবার বলে আজ তাই সন্ধ্যার পরপরই বাসায় চলে এসেছিলাম। হঠাৎই ফোন দিয়ে এক পরিবারের খাদ্য সমস্যার কথা জানায় Meherul Sujon ভাই। ভাইয়া বলল Rakib Juwel ভাইয়ের অফিসে যেতে। তাড়াতাড়ি উঠেই সেখানে হাজির গেলাম। কাজ কিংবা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে তাড়াতাড়ি যাওয়াটা আমার কাছে পুরোনো কিছু নয়।সেখানে গিয়েই শুনলাম কাউকে বলতে না পারা অসহায় এক পরিবাবের কথা।যিনি লজ্জায় বলতে পারছে না তার অসহায়ত্বের কথা।কোন একটি মাধ্যমে জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে।ভাইয়ের কাছ থেকে নাম্বার নিলাম, একটি খাবারের বস্তা মোটরসাইকেলের পিছনে বাধলাম আমি এবং জুয়েল ভাই দুজনে মিলে। এরপর চললাম তার বাড়ির উদ্দেশ্যে।

#প্রথমে তার বাসার পাশে গিয়ে তাকে ফোন করলাম এবং নিজের পরিচয় দিলাম।উনি হয়ত তখনই বুঝতে পেরেছে এবং বললো ভাই আপনি ওখানেই থাকেন আমি আসতেছি।পরে ২মিনিটের মধ্যেই তিনি এসে হাজির হলেন।আমাকে দেখে এগিয়ে এলেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে উনি আমাকে এবং আমার মটর সাইকেলের পিছনে থাকা বস্তাটির দিকে দেখেই তার চোখ দুটি ছলছলে হয়ে গেল। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে তার লজ্জার বিষয়টি।

#এরপর কিছুক্ষন তার সাথে গল্প করে তাকে হালকা করার চেষ্টা করলাম এবং জানতে পারলাম উনারা আজ দুপুরেও কেউ খেয়েছেন কেউ খায়নি। পরিবারে অনেক অবস্থাশালীরা থাকলেও লজ্জায় তাদের কাছে মুখ খুলতে পারছেন না। এদিকে লোকটির একটি চাকরিও হয়ে গেছে যেখানে এই মাসের ১তারিখে জয়েন করার কথা কিন্তু এই মহামারীতে তিনি সেখানেও জয়েনও করতে পারেন নি।

#পরে আশার সময় যখন বস্তাটি তার হাতে দিলাম।ঠিক তখনি তার চোখ বেয়ে পড়তে শুরু হইলো অঝরে পানি। কাঁদতে কাঁদতে বললেন এই খাবারটি দিয়েই তার বাড়িতে আজ রাতে রান্না হবে নয়ত আজ হয়ত তাদের খাওয়া হইতো না। আমি নিজেও আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম তার অবস্থা দেখে এবং কথা শুনে।নিজেকে সামলিয়ে তাকে আর তেমন সাত্বনা দেয়ার চেষ্টা না করে বললাম এটা দিয়ে হয়ত আপনার পরিবারে ৭টি দিন পেরিয়ে যাবে।পরে সমস্যা হলে জানাবেন।পরে আসতে শুধু এ কথাটিই ভাবলাম পরিস্থিতি মানুষকে কোথায় পাঠিয়ে দেয়।আমারা কি সব সময় প্রস্তুত থাকি এমন পরিস্থিতির জন্য।পৌছে জুয়েল ভাইকে সেখানকার গল্প শোনালাম এবং তার মধ্যে একটা তৃপ্ততা খুজে পেলাম এমন মানুষদের জন্য আমরা কাজ করতে পারছি বলে।

#মুলত বগুড়া জেলায় আমরা কাজ করছি সকলের জন্য একটি বেকাপ টীম হিসেবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত সামাজিক চেষ্টায় গড়ে উঠা করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতির ব্যানারে।ইইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়াও পেয়েছে আমাদের এই প্রচেষ্টাটি।
#বগুড়ায়_আপনার_যেকোন_জরুরী_প্রয়োজনে_আমাদের_সাথে__যোগাযোগ_করুন
#আমাদের_হটলাইন_নাম্বার 01951 500 800

দিন শেষে প্রতিদিন ভাবি আমরা কি পারবো এ দুর্যোগ শেষ পর্যন্ত মোকাবিলা করতে!!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here