সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তাওহীদের ১১ দাবী

0
170
শিখা আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো পেশ করা হয় সেগুলো নিম্নরূপ:

১. ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীরহাটের পোরকরা গ্রামে মিথ্যা গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রকাশ্য দিবালোকে দুইজনকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যারা জড়িত ছিল ও পরোক্ষভাবে যারা ইন্ধন যুগিয়েছিল তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২. বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা হলে সেটাকে বিচারহীনতারই নামান্তর মনে করা হয়। কাজেই বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা যেন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারের পদক্ষেপ আশা করি।

৩. হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, গ্রেফতারও করা হয়নি, কিন্তু এখন তাদের নাম, ঠিকানা ও হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে আসছে। এই হামলাকারীদেরকেও দ্রুত গ্রেফতার করে সম্পূরক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে বা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪. উগ্রবাদী সন্ত্রাসী ও ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী আবারও মিথ্যা হ্যান্ডবিল রচনা করে বিভিন্ন মসজিদে, মাদ্রাসায়, রাস্তাঘাটে, দোকানে বিতরণ করছে এবং যেটা আমরা বলিনি, করিনি, যেটা আমাদের আকিদা নয়, বিশ্বাস নয়, সেগুলোকে আমাদের উপর আরোপ করছে। তারা চাচ্ছে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে। মিথ্যা হ্যান্ডবিল রটিয়ে এহেন অপপ্রচারের সাথে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

৫. ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া মাননীয় এমামের বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে আমরা পুনরায় যেই উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তুলেছি, সেই উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে থাকা স্থাপনাগুলো যেমন- স্কুল, মসজিদ, মক্তব, গবাদি পশুর খামার, বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা, কুটির শিল্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে চাষীরহাট বাজারে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

৬. মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে অতীতে কীভাবে জাতিবিনাশী ঘটনা ঘটানো হয়েছে, গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে নির্দোষ মানুষের জান মালের ক্ষতি করা হয়েছে ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে তা গণমাধ্যমকর্মীদের অজানা নয়। এই গুজব সৃষ্টিকারী ও অপপ্রচারকারী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আরও সোচ্চার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

৭. সারা দেশ থেকে আমাদের হাতে আসা তথ্যমতে, শুধু গত এক মাসেই দেশের অন্তত শতাধিক জায়গায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিলে বা জুমার খুতবায় বা অনলাইনে মিথ্যা ওয়াজ করা হয়েছে এবং আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাজেই দেশজুড়ে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের আবাসস্থল, কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

৮. যে সমস্ত তাত্ত্বিক গুরু বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবী ব্যবহার করে ওয়াজের নামে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে, গুজব রটাচ্ছে ও হামলার উসকানি দিচ্ছে, তাদেরকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের আপলোড করা বক্তব্যগুলো দেখে তাদের অন্ধ অনুসারীরা প্রভাবিত হয়ে বহু বেআইনী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। যেমন জঙ্গিবাদী হামলা, ভাস্কর্য ভাঙচুর ইত্যাদি ঘটনার কথা স্মরণ করা যেতে পারে।

৯. দেশের আইনমান্যকারী নাগরিক হিসাবে আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তথাপি ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বারবার আমাদের উপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি যে, পুনরায় আমাদের বাড়িঘরে, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে হামলা চালানোর হুমকি প্রকাশ্যে প্রদান করা হচ্ছে। যদি আবারও তারা আক্রমণ করে, তাহলে প্রশাসনিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কার্যবিধিতে উল্লেখিত আত্মরক্ষার ধারা মোতাবেক আত্মরক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। আমাদের সেই আত্মরক্ষার অধিকার সুস্পষ্টভাবে বলবৎ করতে হবে।

১০. ধর্মব্যবসা, সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, মাদক, হুজুগ, গুজব, জঙ্গিবাদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে সারাদেশে হেযবুত তওহীদ যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেই অনুষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

১১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে হেযবুত তওহীদের এমাম ও সদস্যদের ছবি এডিট ও বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, মিথ্যা গুজব রটানো হচ্ছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। যারা নামে-বেনামে বিভিন্ন আইডি খুলে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here