“সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেও আমরাতো আছি!”

0
280

করোনা মহামারীতে আক্রান্ত হলে এই বাংলার সবাই মুখ ফিরিয়ে নিলেও ডাক্তার, পুলিশ আর সেনাবাহিনী আছে। মৃত্যুর ভয় সবারই আছে কিন্তু এই দেশের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা ও দেশ মাতৃকার সম্পদে বড় হওয়া এই দেশের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ডাক্তার, পুলিশ আর সেনাবাহিনী কখনো পিছু হটে যাবে না। সম্মুখ শত্রু হলে হয়তো হাতিয়ারে ঘায়েল করা যেতো কিন্তু অদৃশ্য শত্রুকে ঘায়েল করার হাতিয়ার নেই আমাদের কাছে। যে মেধা আর বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে দেশটাকে করোনার সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে চেয়েছিলাম তা নষ্ট করে দিয়েছে কতিপয় সীমা লংঘনকারী মানুষ । আজ সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা বিষয়ে আমাদের ছিল না কোন প্রশিক্ষণ, ছিল না কোন সুরক্ষা উপকরণ। তাই বলে কি এমন বিপদে ফেলে যাব আমাদের দেশের মানুষকে?আমরা দেশমাতৃকার তেমন অকৃতজ্ঞ সন্তান নই। তা কখনোই হবার নয়। আজ চিকিৎসা দিতে গিয়ে শতাধিক ডাক্তার ও নার্স করোনায় আক্রান্ত, ২১৮ জন পুলিশ করোনায় আক্রান্ত, বেশ কয়েকজন প্রশাসন ক্যাডার করোনায় আক্রান্ত। অনেকের হয়তো মৃত্যু হবে। কিন্তু তাতেই বা কি? এদেশের মানুষকে ভালবেসে যে মৃত্যু হবে তা নিশ্চয়ই শহীদের মৃত্যুর মতোই মর্যাদাপূর্ণ। আমাদের কঠোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে ধৈর্য্যশক্তি। আমরা সহ্য করতে প্রস্তুত আছি মৃত্যুসম যন্ত্রণাকেও। দেশের মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যারা নিজেদের ছুটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যারা তাদের পরিবারের মায়া ত্যাগ করেছে, যারা তাদের সন্তানদের ছুঁয়ে দেখতে পারেনা, যাদের নির্ঘুম রাত কাটে রাস্তায় তারা পুলিশ! যারা আপনি অভুক্ত থাকলে নিজেরা টাকা দিয়ে খাবার আপনার বাড়িতে পৌঁছে দেয় তারা পুলিশ, আপনি বিপদে পড়লে যারা ছুটে যায় তারা পুলিশ, আপনি অসুস্থ হলে যারা হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা পুলিশ, আর আপনি করোনায় মারা গেলে যারা অসীম সাহস বুকে নিয়ে আপনার লাশের খাটিয়া কাঁধে নিয়ে যায় তারা পুলিশ, যারা আপনার জানাযায় শরীক হয় তারা পুলিশ, যারা আপনাকে কবরের মর্যাদা দান করে তারা পুলিশ। যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে আপনাকে চিকিৎসা করছে তারা আমাদেরই ডাক্তার! যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে তারা ডাক্তার।পুলিশ, ডাক্তার আর সেনাবাহিনী কোন না কোন মায়ের সন্তান, কারো স্বামী, কারো স্ত্রী,কারো ভাই, কারো বোন বা কারো পিতা-মাতা। আপনাদের জীবন বাঁচাতে যারা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে দিচ্ছে, তাদের প্রতি আপনাদের দায়িত্ব ছিল। সেটা হল ঘরে থাকা এবং লগডাউন যেন সফল হয় সেজন্য দরিদ্রদের সাহায্য করা।আপনারা ১ পোয়া চাউল ১৪ জন মিলে দিয়ে ফেসবুকে দিলেন।চাউল দিয়ে ছবি তুলে চাল ফেরত নিলেন! দান করে ছবি তুলে কাকে দেখালেন! ছবিতো রয়ে গেছে ঐ আসমান ও জমিনের মালিকের কাছে।আপনাদের ঘরে থাকার জন্য অনেক অনুনয় আর বিনয় করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা পুলিশ আর সেনাবাহিনীর কথা কর্ণপাত করেন নি। তবুও অভিমানে আপনাদের ছেড়ে যায়নি কেউ। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত এদেশের মানুষকে রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে আছে ডাক্তার, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসন। সন্তান ফেলে যাবে,স্ত্রী পালাবে, ভাই ফেলে যাবে, চাচা তাড়িয়ে দেবে কিন্তু আমরা কাউকে ফেলে দেইনি এবং দেব না। মৃত্যু হলেও আপনার লাশটি সম্মানের সাথে কবরে অথবা চিতায় দেবে এই নিশ্চয়তা নিশ্চয়ই পেয়েছেন পুলিশের কাছ থেকে। করোনা কোন পাপের ফসল নয়। এটি একটি মহামারী যা যে কারো হতে পারে। ভয় নেই, সবাই ভয়ে পালিয়ে গেলেও রোদে পোড়া, বৃষ্টিতে ভেজা, ঘুমহীন লোকটি (পুলিশ)এগিয়ে আসবে। হয়তো তার রুক্ষ মেজাজ থাকবে কিন্তু দেখবেন দায়িত্বকে এড়াতে পারবে না। আপনি যেখানে যে অবস্থায়ই থাকেন আপনার একটি ব্যবস্থা হবে।আল্লাহ চাইলে সুস্থ হয়ে আবারো এই পৃথিবীর আলো বাতাসে পুলিশের জন্য দোয়া করবেন। বাংলাদেশ পুলিশ আপনাকে নিরাপত্তা দিতে বদ্ধপরিকর। আপনারা ঘরে থাকলেই আমাদের স্বস্তি। হয়তো আর কিছুদিন পরই করোনা চলে যাবে। তাই জীবনকে ভালবেসে ঘরে থাকাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।

Stay Home, Stay Safe.

লেখক- মোঃ শামীম হাসান
এস আই(নিঃ)
বাংলাদেশ পুলিশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here