স্পোর্টস ডেস্ক: মোহাম্মদ আশরাফুল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের নায়ক থেকে খলনায়ক। যদিও এখনো অগুণিত ক্রিকেটভক্ত তার জন্য পুষে রেখেছে অকৃত্রিম ভালবাসা। আর ভুল থেকেও শিক্ষা নেয় মানুষ। দেশের এই সাবেক অধিনায়কের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। পাঁচ বছর ফিক্সিং পাপের প্রায়শচিত্ত করে মাঠে ফিরেছেন তিনি। ফের খেলছেন সবার ভালোবাসা নিয়ে। এবার করোনা ভাইরাসে যখন বিপর্যস্ত দেশ ঠিক তখন মানুষের জন্য তার ভালোবাসার প্রতিদান দিতে এগিয়ে এসেছেন। অভিষেকেই টেস্টে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান প্রতিজ্ঞা করেছেন অসহায় মানুষের পাশে থাকার।

তাই নিজের সবচেয়ে প্রিয় ও ঐতিহাসিক ব্যাট দুটি নিলামে তোলার সিদ্বান্ত নিয়েছেন। অবশ্য তার আগেই আরেক নিষিদ্ধ ক্রিকেটার সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তার ব্যাট বিক্রি করেছেন। এই নিলামের সংস্কৃতি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। তাই আশরাফুল মনে করেন সাকিব তার রেকর্ড ও ইতিহাস গড়া ব্যাটের যে মূল্য আশা করেছিলেন তা পাননি। ২০ লাখ টাকায় তা কিনে নিয়েছেন এক ক্রিকেটভক্ত। তবে তার (আশরাফুল) ব্যাট দুটি বিক্রি হবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের চেয়ে বেশি মূল্যে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে সাকিবের ব্যাটের দাম অনেক কম হয়ে গেছে। এর দুটি কারণ হতে পারে এক- গোটা পৃথিবীর পরিস্থিতি এখন ভীষণ খারাপ। আরেকটা হতে পারে অনেক তাড়াহুড়া করা হয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি আমার ব্যাট দুটির দাম অনেক বেশি পাবো। কারণ এ দুটির সঙ্গে আছে ইতিহাস গড়া রেকর্ড।’
২০০১ এ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে আশরাফুল বিশ্বে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এক কথায় বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ছিলেন তার ব্যাটে। ক্যারিয়ারের স্মৃতিময় আরেকটি ব্যাটও আছে তার। ২০০৫ সালে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সেঞ্চুরির স্মৃতি এখনো তার হৃদয়ে গেঁথে আছে। তবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের সেবায় তার এই অমূল্য সম্মদ দুটি নিলামে তুলতে দ্বিধা করছেন না। আশরাফুল বলেন, ‘দুটি ব্যাটেরই ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি। আমার কাছে তো এর কোন মূল্যই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষের জন্য কিছু করতে হলে টাকার প্রয়োজন। আমি আশা করছি এই নিলামের মাধ্যমে তাদের জন্য বড় একটা অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হবে।’
তবে নিলাম কীভাবে করবেন বা কাদের মাধ্যমে সেটি এখনো ঠিক করতে পারেননি সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে তাড়াহুড়া করে নিলামটা আয়োজন করতে চাই না। আমি চাই যেন এই ব্যাট থেকে আসা আয়টা অনেক বেশি হয়। কারণ যত বেশি টাকা হবে ততো মানুষের কাজে আসবে।’

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য থাকবে অগ্রাধিকার
নিলামে যত টাকাই আসুক পুরোটাই ব্যবহার হবে করোনায় নিঃস্ব হওয়া মানুষের জন্য। তবে আশরাফুল সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিবেন প্রতিবন্ধী শিশুদের। তিনি বলেন, ‘নিলামে পুরোটাই করোনায় দুর্গতদের জন্য ব্যয় হবে। এর মধ্যে আমার নিজের এলাকার যারা গরীব ও অসহায় আছে তারা পাবেন। এছাড়াও যেখানে প্রয়োজন দেখবো সেখানে দিবো। তবে আমি অগ্রাধিকার দিবো প্রতিবন্ধী শিশুদের। কারণ এখন পর্যন্ত আমার মনে হয় না তেমন কেউ কিছু করেছে। আমি দেখছিও না দেশে হাজার হাজার প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু করা হচ্ছে। তাই নিলাম থেকে যে আয় হবে তার বড় একটা অংশ যাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য।’
যেহেতু এই নিলাম তার নিজের জন্য তাই আশরাফুল দেশ ও বিদেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখেন আমার জীবনের সেরা দুটি অর্জন আমি মানুষের জন্য দিয়ে দিচ্ছি। তাই বিত্তবানরা যে যেখানে আছেন, অনুরোধ থাকবে তারা যেন মানুষের কথা ভেবেই নিলামে অংশ নেন। যেন অনেক মানুষ এতে উপকৃত হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here