আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকী। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতার কারণে জনস্বার্থে এ বছর বাতিল করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। সব ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে দিবসটি উদযাপনে কোনও কর্মসূচি নেয়নি রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। তবে সীমিত পরিসরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দিবসটির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

সারা দেশ থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে জানা যায়, সামাজিক দূরত্বের (স্যোশাল ডিস্টেন্স) নিয়ম মেনে এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে জেলা প্রশাসন।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে শেরপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বল্পপরিসরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ) ভোরে শেরপুর সদর থানা প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮টায় সার্কিট হাউজে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে দিবসটির কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা, বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক মতিয়ার রহমান সাজু, ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা, মুক্তিযোদ্ধা আবু ওহাব, ধুনট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান, ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাদুর আলী প্রমুখ।

এর আগে সূর্যদোয়ের সাথে ধুনট থানা চত্ত্বরে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা করা হয়। দুপুরের দিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

মেহেরপুর থেকে পাঠানো সংবাদে জানা যায়- তোপধ্বনি, শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে অনাড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে দিবসটি পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের পর মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ স্মৃতিসৌধ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের গণকবরে পৃথকভাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের এমপি ফরহাদ হোসেনের পক্ষে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি ও পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি শহীদ স্মৃতিসৌধে ফুল দেন। এরপর জেলাবাসীর পক্ষেও ফুল দেন তারা।

এছাড়াও সকালে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিয়াউদ্দিন বিশ্বাস এবং মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো ওসমান গনি। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।রিশালেও সীমিত আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল প্রতিনিধি। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর সার্কিট হাউজে বিভাগীয় কমিশনার সুনির্দিষ্ট অতিথিদের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় সাপেক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে সীমিত আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে।’ এসময় জনগণকে যার যার নিজের ঘরে উপস্থিত থেকে করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।

নড়াইল প্রতিনিধি জানান, সংক্ষিপ্তভাবে মহান স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। ভোরে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা শহরের বঙ্গবন্ধু মঞ্চ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং কবুতর ও বেলুন ওড়ান। পরে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য রাখেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস প্রমুখ। বক্তব্য শেষে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

করোনার ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি।

তিনি জানান, সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মুজিব মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নুরুল হক। এসময় জাতীয় পতাকার প্রতি সালাম জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব।

অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শংকর কুমার কুণ্ডু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদসহ আরও অনেকে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন,‘মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে হারিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এবার আমাদের যুদ্ধ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও এই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here