সেই পুরনো চেহারায় ফিরল বগুড়া শহর

0
498

           সুমন সরদার, নিজস্ব প্রতিবেদক:

সেই পুরনো চেহারায় ফিরল বগুড়া। উত্তরবঙ্গের দ্বারপ্রান্ত হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়টি ব্যাপক ভুমিকা রাখে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজিবীদের মধ্যে। দির্ঘ্য ৬৬ দিন সরকারি ছুটি কাটানোর পরে স্বাস্থ্যবিধী অনুস্মরণ করে খুলেছে সরকারি অফিস গুলো। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় জবুথবু অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আর অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারের পদক্ষেপে মানুষ যে যার কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। করোনা সংক্রমণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তালিকায় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের নাম যোগ হয়েছে।

বগুড়ায় সরকারি অফিস খোলার প্রথম দিনেই সহকর্মীদের সাথে করোনা পরিস্থিতিতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নিয়ে ঈদ পরবর্তী কুশল বিনিময়ের বিষয়টি ছিল মূখ্য। স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে অন্যান্য দপ্তরগুলোতেও। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিউ মার্কেট ও আদর্শ রেলওয়ে হকার্স মাকেট ৭ দিনেী জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কর্মস্থলে যোগদানের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনিয় সব ধরনের সামগ্রী কেনা কাটার জন্য শহরে মানুষের ভীড় লক্ষনীয়। শহরের বুকে আগের মতই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বাইকাররা, অটোরিকশা, পায়ে চলা রিকশা, সিএনজি, ইজিবাইক, এছাড়াও প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস, এম্বুলেন্স, এমনকি অভ্যান্তরিন রুটে নিয়মিত বাস চলাচল করতে দেখা গেছে। খুলেছে বাস কাউন্টার, চলছে গণপরিবহনও। শহরে বসছে ফুটপাতে ব্যবসায়ীরা। চা-পানের দোকানও খুলে বসেছে অনেকেই। বেশির ভাগই মুখে মাস্ক, হ্যান্ডগ্লোভস আবার অনেকেই পিপিই পড়ে ঘর থেকে বেরিয়েছেন। দীর্ঘদিন পরে ঘর থেকে বেরিয়ে সাধারন মানুষ যেন মুক্তপাখির মত ডানা মেলেই চলাচল করছে।

লম্বা ছুটির পরে অফিসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে বিআরটিএ বগুড়া সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক এস.এম. সবুজ দৃষ্টি ২৪ ডটকমকে জানান, স্বাস্থ্যঝুঁকিতো রয়েছে তারপরও সরকারি নির্দেশে অফিস করা হচ্ছে। নতুন করে কোন কাজ নেয়া হচ্ছেনা। পেন্ডিং কাজ গুলোই স্বাভাবিক প্রকৃিয়ায় করা হচ্ছে, তবে লার্নার আবেদন অনলাইনে নেয়া হচ্ছে।

শহরের সাতমাথায় পানদোকানদার আঃ মান্নান দৃষ্টি ২৪ ডট কমকে জানান, আমরা নিম্নআয়ের মানুষ। কিস্তি তুলে ব্যবসা করছি। আর কতদিন এভাবে সংসার চলে। তাই সব খোলার কথা শুনে দোকান খুলেছি।
এদিকে সোমবার সকাল থেকেই বনানী, তিনমাথা, চারমাথা এলাকায় বাস ও ট্রাকের প্রবেশের চাপ বেশি থাকায় ঘনঘন দীর্ঘ জট লক্ষ্য করা গেছে। যদিও প্রতিটি পয়েন্টে টিআই ও সার্জেন্ট ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা প্রখর রোদের মধ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম সরকার দৃষ্টি২৪ ডটকমকে জানান, স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কারনে শহরে চলমান যানযট হতে পারে। তবে চারমাথায় রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ খানাখন্দভরা হওয়াতে বাস- ট্রাক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, তারপরও আমরা আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। আমি নিজেই মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here