হাঁক-ডাক নেই হকারদের, ‘নিস্তব্ধ সান্তাহার জংশন’

0
304

তরিকুল ইসলাম জেন্টু, সান্তাহার (বগুড়া) :

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জংশন ‘সান্তাহার স্টেশন’। ১৮৭৮ সালে বৃটিশ সরকারের আমলে এ স্টেশনটি নির্মিত হয়। ১৯০১সালে সান্তাহার থেকে বোনারপাড়া অভিমুখে মিটার গেজ লাইন চালু হলে এটি জংশনের মর্যাদা পায়। আর সেই থেকে সান্তাহার হয়ে ওঠে এক ব্যস্ততম রেলওয়ে জংশন স্টেশন।

১৮৭৮সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত ব্যস্ততার সাথে চলে আসছে স্টেশনটির কার্যক্রম। ১৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও একটি দিনের জন্যেও কোনো ধরনের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। কিন্ত বিশ্বব্যাপী এক মহামারী করোনার থাবায় জনশূণ্য ও নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী এ জংশন স্টেশন।

গত ২৪ মার্চ থেকে ৭মে পর্যন্ত প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ হয়ে গেছে সকল আন্ত:নগর ও লোকাল ট্রেনগুলো। ফলে আগের মতো আর হকারদের হাঁক ডাক নেই এ স্টেশনে। নেই যাত্রীদের পদচারনা, আগের মতো দেখা মিলছেনা রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও। অথচ সান্তাহার পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, আক্কেলপুর, দুপচাঁচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের পদচারনায় দিনরাত মুখরিত হয়ে উঠতো এ স্টেশনটি। বৃহৎ এ জংশনকে ঘিরে প্রায় অর্ধশতাধিক হকারদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো। এখন স্টেশনে যাত্রী নেই তাই হকারদের রোজগারও নেই।

সান্তাহার পৌরশহরের বাসিন্দা লেমন মাহাবুব জানান, যখন স্টেশন থেকে মাইকে ঘোষনা করা হতো ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতযান আন্তনগর এক্সপ্রেস আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ২নম্বর প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াবে অথবা ৩নম্বর প্লাটফর্ম থেকে আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে রাজশাহী আভিমুখে ট্রেনটি ছেড়ে যাবে। এমন ঘোষনায় স্টেশনের হকাররা তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠে যেতো আর বিক্রি করতো তাদের জিনিসপত্র। দৈনিক পত্রিকা, মুখোরোচক খাবার ও দৈন্যন্দিনের প্রয়োজনীয় ছোট খাটো অনেক জিনিসপত্র তাদের কাছে পাওয়া যেতো।

সান্তাহার হকার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, স্টেশন এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক হকাররা করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। স্টেশনে ট্রেন আসা যাওয়া বন্ধ থাকায় জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকে অন্য পেশা করছেন। আবার কেউ কেউ অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এদের অনেকের ঘরে এখনো কোনো ত্রাণ সামগ্রী বা প্রনোদনা পৌঁছায়নি। ফলে তারা অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। সবাই এখন চেয়ে আছে আবার কবে গতি ফিরে পাবে স্টেশনটি।

তিনি বলেন, আমাদের সকলের কামনা দেশ থেকে তাড়াতাড়ি করোনা ভাইরাস বিদায় নিয়ে চলে যাক। দেশের আপামর জনসাধারন ও সান্তাহার রেলওয়ের এ স্টেশনটি প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাক ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here