৮১ বছর বয়সে করোনা জয়

0
183

বাংলাদেশ প্রতিদিন:

করোনাভাইরাসের ক্ষুদ্র শক্তিশালী অণুজীবকে পরাজিত করে জিতে গেছে জীবন। লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ভাইরাসকে মনোবল দিয়ে হারিয়ে দিয়েছেন ৮১ বছরের মালেকা খাতুন।

শারীরিক জটিলতা, অসুস্থতা থাকলেও ভয় ছিল না তাঁর মধ্যে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সেবা ও নিজের চেষ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন তিনি।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কভিড-১৯-বিষয়ক কমিটির সদস্যসচিব ফোকালপারসন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘করোনার কোনো নির্ধারিত চিকিৎসা নেই। সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসা। আমরা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে মাঝেমধ্যে তাঁর সঙ্গে গিয়ে গল্প করতাম। সমস্যাগুলো তিনি মন খুলে বলতে পারতেন। তিনি মানসিকভাবে অনেক শক্ত ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির ২০ দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন।’

হাসপাতালসূত্রে জানা যায়, ২৬ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে করোনা রোগীদের নির্ধারিত মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন মালেকা খাতুন। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের এই বাসিন্দার বয়স ৮১ বছর। ১৬ মে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন তিনি। বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও বাংলাদেশেও করোনায় মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সীর সংখ্যা বেশি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এই বয়সীরা। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, বয়সের ওপর শরীরে রোগের জটিলতা কমবেশি হয় না। যারা আগে থেকেই জটিল, দুরারোগ্য অসুখে ভুগছেন তারা করোনা আক্রান্ত হলে জটিলতা আরও বেড়ে যায়। বার্ধক্যের কারণে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন, তাই অনেকে করোনার ধকল সামলাতে পারেন না। কিন্তু শুধু উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা থাকলেই যে বয়স্ক মানুষ করোনায় মারা যাবে তা ভুল ধারণা। রোগী মনোবল হারিয়ে ফেললে তাদের সারিয়ে তুলতে বেগ পেতে হয় চিকিৎসকদের।

এখানে বয়সের চেয়ে শারীরিক জটিলতা মুখ্য। করোনার ভয়ে অনেক বয়স্ক ব্যক্তির রাতের ঘুম চলে গেছে। অযথা ভয় পেয়ে মনোবল হারানো নয়, বরং সচেতন থেকে মনোবল চাঙ্গা রাখতে হবে।

করোনাকে হার মানানো মালেকা খাতুন বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হলে আমার পরিবারের লোকজন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। প্রথমে হাসপাতালে যেতে খুব ভয় লাগছিল। আমি একা হেঁটে টয়লেটে যেতে পারি না। তবে হাসপাতালে যাওয়ার পর তাদের সেবায় আমি সন্তুষ্ট। বারবার এসে চিকিৎসক-নার্সেরা দেখে যেতেন। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ছিল। আমার শুধু একটাই চেষ্টা ছিল- দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া।’

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালক শাহ গোলাম নবী তুহিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বয়স্ক রোগী আক্রান্ত হলেই বাঁচার আশা ছেড়ে দিতে হবে- এ ধরনের চিন্তাকে আমরা ভুল প্রমাণ করেছি। চিকিৎসক-নার্সদের অক্লান্ত চেষ্টা ও রোগীর মনোবলের কারণে আমরা তাঁকে সুস্থ করে তুলতে পেরেছি। করোনা নিয়ে বয়স্ক মানুষের এত ভয়ের কিছু নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ও সঠিক চিকিৎসা পেলে তারাও সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের কভিড-১৯-বিষয়ক চিকিৎসক কমিটির সভাপতি ডা. মণিলাল আইচ বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত করোনা আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা কাজ করে চলেছেন। তাঁদের পরিশ্রমের ফলে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মালেকা খাতুন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here