নওগাঁ প্রতিনিধি
বিশ্ব এখন করোনা আতঙ্কে নিমজ্জিত। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সচেতনতার জন্য মাস্ক ও জীবানুমুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে। দেশে করোনা আতঙ্কের পর থেকে মাস্ক ও জীবানুমুক্ত স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য উপকরণ দোকানগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম সংকটের পাশাপাশি দ্বিগুন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারপরও মিলছে না। ক্রান্তিলগ্নে কেউ নিজের লাভের কথা ভাবছে। আবার কেউ ভাবছেন দেশ ও দশের কথা।
আর এমন সংকটময় মুহুর্তে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই নওগাঁর স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠন ‘একুশে পরিষদ’ বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাস্ক তৈরি করে স্বল্প আয়ের বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে বিনামূল্যে একটি করে প্রায় পাঁচশটি মাস্ক ও পাঁচশটি স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। আরও বিতরণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন এ সংগঠনের নেতারা। সেই সাথে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

গত শুক্রবার শহরের ঐতিহ্যবাহী প্যারিমোহর লাইব্রেরি চত্ত্বরে ‘একুশে পরিষদ’ সংগঠনের নিজস্ব কর্মীবাহিনী দিয়ে মাস্ক তৈরি শুরু করে। বাজার থেকে কাপড় ও রাবার কিনে নিজস্বভাবে মাস্ক তৈরি করা হয়েছে। গত তিনদিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাস্ক তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপকরণ কিনে জীবানুমুক্ত স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়েছে। পরে শহরের কেডির মোড়, মুক্তির মোড়, গোস্তহাটির মোড়, ঢাকা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষের মাঝে এসব মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয় এবং হচ্ছে। সেই সাথে সচেতনতামুলক লিফলেট প্রচার করা হচ্ছে। সংকটময় এ সময়ে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা বিনামূল্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার পেয়ে খুশি। সংগঠনের এমন কর্মকাণ্ডে নওগাঁবাসী উৎসাহ জুগিয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এমএম রাসেল জানান, সংকটময় এ মুহুর্তে আমরা সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনে সাধ্যমতো আরও মাস্ক ও জীবানুমুক্ত স্যানিটাইজার বিতরণ করা হবে।
নওগাঁ একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, এ ভাইরাসের এখনো কোনো মেডিসিন তৈরি হয়নি। সুতরাং আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। নিজেরা সচেতন হবো, অন্যকে সচেতন করবো। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এবং যেসব সংগঠন রয়েছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে ভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ড. জোহা দিবস পালনের মাধ্যমে সংগঠনটি যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে সংগঠনটি ‘একুশে উদ্যাপন পরিষদ নওগাঁ’ নাম থাকলেও পরিবর্তীতে ‘একুশে পরিষদ নওগাঁ’ নামকরণ করা হয়। এ সংগঠনটি ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে মূল চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আর্দশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিরলসভাবে করে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here